০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে জাপানের করণীয়: শুধু ওয়াশিংটনের বিরোধিতা যথেষ্ট নয় শোকের মাসের শেষ দিন: এবার বাঙালির বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন সাধারণের প্রাণে প্রাণে হাসিনা ফ্যাক্টর নয়, আসল ঝুঁকি বিদ্যুৎ-গ্যাসে চীন, পাকিস্তান ও আমেরিকার অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য যে সতর্কবার্তা ‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’ সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা কি কমছে?

জ্বালানি মজুতের দৌড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, দরিদ্র দেশগুলোতে তীব্র সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধনী দেশগুলো আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেছে। এর ফলে একদিকে বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো তীব্র সংকটে পড়ছে।

জ্বালানি দখলের প্রতিযোগিতা
যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান ও চীনের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো বেশি দামে জ্বালানি কিনে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের মজুত ধরে রাখতে রপ্তানিও সীমিত করছে।
এই প্রতিযোগিতার ফলে বাজারে দামের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না।

‘সংকটের ভয়ে সংকট আরও বাড়ছে’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির অভাবের আশঙ্কা থেকেই দেশগুলো অতিরিক্ত কিনছে। এতে একটি ‘চক্র’ তৈরি হচ্ছে—চাহিদা বাড়ছে, দাম বাড়ছে, আবার সেই ভয়ে আরও বেশি কেনাকাটা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বৈষম্য বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব
এই সংকট শুধু তেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের শহরগুলোতে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিমান জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ড ও চীন নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রপ্তানি বন্ধ করায় ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিমান চলাচল ও পর্যটনে ধাক্কা
ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। একটি বড় এয়ারলাইন ইতোমধ্যে কয়েক মাসে প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের মতো দেশে পর্যটন খাত জ্বালানি সংকটের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ধনী-দরিদ্র বৈষম্য স্পষ্ট
চীনের মতো দেশগুলো বড় আকারে তেল মজুত করার সক্ষমতা রাখে, ফলে তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু ছোট ও দরিদ্র অর্থনীতিগুলো এই সুবিধা পায় না।
ফিলিপাইনের মতো দেশে জ্বালানির দাম বাড়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে এবং পরিবহন খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

ভারতেও সংকট
ভারতে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

অতীতের পুনরাবৃত্তি
এ ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। খাদ্য সংকট, মহামারি—প্রতিটি বড় বৈশ্বিক সংকটে দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমে গিয়ে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বায়নের ধারণায় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বায়নের ধারণা ছিল, মুক্ত বাণিজ্য সবার জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু সংকটের সময়ে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থই আগে দেখছে।
এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে সমতা ভেঙে পড়ছে এবং সীমান্তের গুরুত্ব আবারও বেড়ে উঠছে।

সামগ্রিক চিত্র
বর্তমান জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে—বিশ্বের সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য কতটা গভীর। ধনী দেশগুলো বেশি দামে কিনে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে, আর দরিদ্র দেশগুলো জ্বালানি ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে জাপানের করণীয়: শুধু ওয়াশিংটনের বিরোধিতা যথেষ্ট নয়

জ্বালানি মজুতের দৌড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, দরিদ্র দেশগুলোতে তীব্র সংকট

০৮:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধনী দেশগুলো আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেছে। এর ফলে একদিকে বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো তীব্র সংকটে পড়ছে।

জ্বালানি দখলের প্রতিযোগিতা
যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান ও চীনের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো বেশি দামে জ্বালানি কিনে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের মজুত ধরে রাখতে রপ্তানিও সীমিত করছে।
এই প্রতিযোগিতার ফলে বাজারে দামের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না।

‘সংকটের ভয়ে সংকট আরও বাড়ছে’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির অভাবের আশঙ্কা থেকেই দেশগুলো অতিরিক্ত কিনছে। এতে একটি ‘চক্র’ তৈরি হচ্ছে—চাহিদা বাড়ছে, দাম বাড়ছে, আবার সেই ভয়ে আরও বেশি কেনাকাটা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বৈষম্য বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব
এই সংকট শুধু তেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের শহরগুলোতে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিমান জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ড ও চীন নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রপ্তানি বন্ধ করায় ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিমান চলাচল ও পর্যটনে ধাক্কা
ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। একটি বড় এয়ারলাইন ইতোমধ্যে কয়েক মাসে প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের মতো দেশে পর্যটন খাত জ্বালানি সংকটের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ধনী-দরিদ্র বৈষম্য স্পষ্ট
চীনের মতো দেশগুলো বড় আকারে তেল মজুত করার সক্ষমতা রাখে, ফলে তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু ছোট ও দরিদ্র অর্থনীতিগুলো এই সুবিধা পায় না।
ফিলিপাইনের মতো দেশে জ্বালানির দাম বাড়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে এবং পরিবহন খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

ভারতেও সংকট
ভারতে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

অতীতের পুনরাবৃত্তি
এ ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। খাদ্য সংকট, মহামারি—প্রতিটি বড় বৈশ্বিক সংকটে দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমে গিয়ে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বায়নের ধারণায় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বায়নের ধারণা ছিল, মুক্ত বাণিজ্য সবার জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু সংকটের সময়ে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থই আগে দেখছে।
এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে সমতা ভেঙে পড়ছে এবং সীমান্তের গুরুত্ব আবারও বেড়ে উঠছে।

সামগ্রিক চিত্র
বর্তমান জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে—বিশ্বের সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য কতটা গভীর। ধনী দেশগুলো বেশি দামে কিনে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে, আর দরিদ্র দেশগুলো জ্বালানি ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।