আজকের দিনে বেশিরভাগ জিমই ঝকঝকে, আধুনিক আর সাজানো পরিবেশে তৈরি। কিন্তু সেই পুরোনো দিনের লোহার গন্ধ আর ঘামে ভেজা কঠোর ট্রেনিংয়ের জিম এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। ঠিক এই জায়গাতেই ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে অবস্থিত ‘মাসলওয়ার্কস’—যেখানে এখনো টিকে আছে বডিবিল্ডিংয়ের আসল চেতনা।
পুরোনো ধাঁচের জিম, নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ
এই জিমের প্রতিষ্ঠাতা স্যাভাস কিরিয়াকু শুরু থেকেই চেয়েছিলেন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যা আমেরিকার কিংবদন্তি গোল্ডস জিমের মতো। যেখানে সিরিয়াস অ্যাথলেটরা নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারেন। শুরুতে এখানে কার্ডিও মেশিন ছিল না—ছিল শুধু ডাম্বেল, ফ্রি ওয়েট আর রেজিস্ট্যান্স মেশিন। লক্ষ্য ছিল একটাই—সেরা লিফটারদের আকর্ষণ করা।

চ্যাম্পিয়ন তৈরির পরিকল্পিত প্রচেষ্টা
শুরু থেকেই তিনি কিছু কৌশল নিয়েছিলেন। নতুন যন্ত্রপাতি আনা, প্রতিযোগিতায় শীর্ষ তিনে থাকা বডিবিল্ডারদের বিনামূল্যে সদস্যপদ দেওয়া—এসব ছিল তার পরিকল্পনার অংশ। এমনকি কিছু অ্যাথলেটকে অর্থ দিয়ে জিমে আনাও হয়েছিল, যা সেই সময়ের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রচলিত। এর ফলও মিলেছিল—নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন তৈরি হয় এই জিম থেকেই।
সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন, কিন্তু মূল চেতনা অটুট
প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় চার দশকে জিমটি তিনবার স্থান পরিবর্তন করেছে, শুধু বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য। বর্তমানে এখানে রয়েছে প্রায় ২৬০টি যন্ত্র, যার মধ্যে লেগ এক্সটেনশন, লেগ প্রেস, স্কোয়াট মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত সরঞ্জাম রয়েছে। জায়গা সংকট থাকলেও নতুন নতুন যন্ত্র যুক্ত করে জিমটিকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।

আবেগই সাফল্যের মূল শক্তি
জিমটির সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রতিষ্ঠাতার অদম্য আবেগ। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তার লক্ষ্য একটাই—সেরা বডিবিল্ডিং জিম তৈরি করা। আর এই লক্ষ্য পূরণে এখনো তিনি থেমে নেই। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করছেন, উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ যাই হোক, শিকড় থাকবে শক্ত
ফিটনেস জগতের নতুন ট্রেন্ড আসবে, বদলাবে অনেক কিছু। কিন্তু মাসলওয়ার্কসের মূল শক্তি—কঠোর পরিশ্রম, বাস্তবতা আর পুরোনো দিনের কঠিন ট্রেনিং সংস্কৃতি—সেটা কখনোই বদলাবে না। এই কারণেই আজও এটি বিশ্বের সেরা জিমগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















