মার্চ মাসে একটি আলোচনায় ১২ জন তরুণ শ্বেত-কলার চাকরি প্রার্থীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। তারা ছিল কিশোর ও বিশের কোঠার মানুষ। তাদের চোখে ভবিষ্যৎ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ভিন্ন রাজনৈতিক মত, পেশা, জাতিগত ও ভৌগোলিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও তারা চাকরির বাজারকে বর্ণনা করেছে “ভয়াবহ”, “কঠিন” এবং “অগোছালো” হিসেবে।
মিশেলাহ নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট তরুণী, যিনি গ্রাহকসেবায় কাজ করেন এবং গত ছয় মাসে অন্তত ৩০টি চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, বাজারটিকে বলেছেন “শুষ্ক”। বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটা যেন মরুভূমির মতো। আপনি সেখানে আছেন, কিন্তু কোনো পানির ছোঁয়া পাচ্ছেন না।”
আমি প্রজন্ম জেডের আরও অনেকের কাছ থেকে একই ধরনের অভিজ্ঞতা শুনেছি। গত নভেম্বরে তারা আমাকে বলেছিল, চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে “দুঃস্বপ্নের মতো” মনে হয়। এমনকি যারা কোনোভাবে কাজ পেয়েছে, তারাও ভালো নেই। তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি মানসিক হতাশার কথা জানিয়েছে।
২০২৬ সালের স্নাতকদের জন্য চাকরির বাজারকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এর কারণ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বা অর্থনীতির অবস্থা নয়। যারা মনে করেন দক্ষতাভিত্তিক কাজই সমাধান, তাদের জন্যও খবর ভালো নয়। কলেজে না-পড়া অনেকেই কাজ খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে এমন একটি সময় চলছে, যখন খুব কম মানুষ নিয়োগ পাচ্ছে বা চাকরি হারাচ্ছে—ফলে নতুনদের জন্য সুযোগ আটকে যাচ্ছে। এই স্থবিরতা আসলে দীর্ঘদিনের সমস্যার ওপর জমে থাকা শেষ স্তর।

তিনজন অর্থনীতিবিদের একটি নতুন গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কীভাবে গত ৪০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের “চাকরির সিঁড়ি” ভেঙে পড়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা শুধু প্রজন্ম জেড নয়, বরং ৩০, ৪০ ও ৫০ বছর বয়সীদের আয়ের বৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। কয়েক বছর আগে আমি যেসব মধ্যবয়সী মিলেনিয়ালদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তারা বলেছিল—শারীরিকভাবে তারা চল্লিশে, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে যেন বিশে আটকে আছে।
একটি গবেষণাপত্রে ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের ভালো বেতনের নতুন প্রস্তাব পাওয়ার সম্ভাবনা ১৯৮০-এর দশকের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অথচ বড় বেতন বৃদ্ধি সাধারণত চাকরি পরিবর্তনের মাধ্যমেই আসে।
সমস্যাটি কাজের চাহিদার অভাব নয় বা চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়া নয়। বরং অনেক কর্মী ক্রমশ কম বেতনের চাকরিতে আটকে পড়ছেন। এই অবস্থাই তরুণদের হতাশার বড় কারণ হতে পারে। গবেষকদের ভাষায়, “চাকরির সিঁড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।” এমন অনিশ্চিত অর্থনীতিতে কেউ সহজে চাকরি ছাড়তেও চান না।
গবেষকরা এই পরিস্থিতির দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমটি হলো নিয়োগকর্তাদের মধ্যে একচেটিয়া আধিপত্য বৃদ্ধি, যা কর্মীদের বিকল্প খোঁজার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
গণমাধ্যম খাত এটির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। আগে স্থানীয় পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিওতে অনেক কাজের সুযোগ ছিল। এখন সেগুলোর অনেকই বন্ধ হয়ে গেছে বা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হলো প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ চুক্তির বিস্তার। এই চুক্তি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় ও অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে কাজ করা থেকে বিরত রাখে। ১৯৮০-এর দশক থেকে আদালতগুলো এই ধরনের চুক্তিকে বেশি সমর্থন দিতে শুরু করে।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৮ শতাংশ কর্মী জীবনের কোনো না কোনো সময় এমন চুক্তির আওতায় পড়েছেন। শুধু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই নয়, খণ্ডকালীন ও ঘণ্টাভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রেও এসব শর্ত প্রয়োগ করা হয়। অনেক কর্মীই না বুঝেই এসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
নিয়োগকর্তারা মূলত তাদের কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া ঠেকাতে এসব চুক্তি ব্যবহার করেন। তবে এর ফলে শ্রমিকদের মজুরি কমে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে এই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের মজুরি গড়ে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এসব চুক্তি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরে তা আদালতে আটকে যায়। তবুও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য চাইলে এগুলো সীমিত বা নিষিদ্ধ করতে পারে।
বর্তমান বিশ্বের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের পরিচয় খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রজন্ম জেড। তাই তাদের প্রতি সহানুভূতি থাকা জরুরি। যারা এখনও তরুণদের অলস বা অমনোযোগী বলে মনে করেন, তাদের বোঝা উচিত—এই প্রজন্ম এমন একটি অর্থনৈতিক সিঁড়িতে উঠতে চেষ্টা করছে, যা তাদের জন্মের আগেই ভেঙে পড়েছিল।
তারা এখন কেবল টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















