চট্টগ্রামের পাইকারি ভোগ্যপণ্যের প্রধান বাজার খাতুনগঞ্জে পণ্য পরিবহনের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রিপে ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ ক্রেতাদের।
পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার চিত্র
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানান, আগে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চাল পরিবহনে ট্রাক ভাড়া ছিল ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি ট্রিপে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।
একইভাবে চাকতাই-খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, পাবনা থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনতে আগে যেখানে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা লাগতো, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও ভাড়া বেড়ে ২৭-২৮ হাজার টাকা থেকে ৩৫-৪০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তার ভাষায়, জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এই বাড়তি খরচ চাপছে ব্যবসায়ীদের ওপর, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

জ্বালানি দামের প্রভাব ও নতুন সারচার্জ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্দরের কার্যক্রমেও। চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন সাড়ে ৮ শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই এটি কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ডিপো মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার জানান, ডিপো পরিচালনার প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও কনটেইনার পরিবহন ব্যবস্থা ডিজেলনির্ভর। সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করায় খরচ বেড়েছে। এ কারণেই সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে তেলের দাম কমলে তা সমন্বয় করা হবে।
নিয়ম না মানার অভিযোগ
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ এই সারচার্জ আরোপের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বেসরকারি ডিপোগুলো বন্দরের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে পরিচালিত হয় এবং এখানে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। কিন্তু সারচার্জ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই বাড়তি চাপের মুখে পড়বে।
ট্রাক মালিকদের বক্তব্য
চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আমির পারভেজ জনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ভাড়ায়। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে ২৭-২৮ হাজার টাকা লাগলেও এখন তা ৩২-৩৫ হাজার টাকায় উঠেছে। চাহিদা বেশি থাকলে ভাড়া ৪০ হাজার টাকাও হয়ে যায়, আবার কম চাহিদার সময় কিছুটা কমে আসে।
সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে সারাদেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















