আমরা যখন কাউকে চুমু খেতে দেখি, তখন সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখি। কিন্তু বিবর্তনবিদদের কাছে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তাদের প্রশ্ন-মানুষ কেন চুমু খায়? কেন সব মানুষ চুমু খায় না? আর এর শুরুটা কবে?
বিজ্ঞানের ভাষায় ‘চুমু’ কী?
গবেষকরা চুমুকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এক ধরনের অ-আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে, যেখানে একই প্রজাতির দুই সদস্য মুখের সংস্পর্শে আসে এবং ঠোঁট বা মুখের কিছু নড়াচড়া হয়-তবে কোনো খাবার আদান-প্রদান হয় না।

চুমুর উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চুমুর উৎপত্তি হতে পারে দুইভাবে-
• এটি হতে পারে শেখা আচরণ।
• অথবা এটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।
কেউ কেউ মনে করেন, প্রাচীনকালে বাবা-মা শিশুকে খাবার চিবিয়ে মুখে দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকেই চুমুর ধারণা এসেছে। আবার কেউ বলেন, এটি সামাজিক বন্ধন তৈরির একটি উপায়।
মিলিয়ন বছর পুরোনো অভ্যাস
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাইমেটদের মধ্যে চুমুর আচরণ প্রায় ১৭ থেকে ২০ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, এটি মানুষের বিবর্তনের অনেক পুরোনো একটি অংশ।
গবেষণার সীমাবদ্ধতা
তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গবেষকরা শুধু ‘চুমু আছে কি নেই’-এই সরল মানদণ্ডে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যা এত জটিল আচরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।

মানুষই শুধু নয়, প্রাণীরাও ‘চুমু’ খায়
শুধু মানুষ নয়-পিঁপড়া, মাছ, আলবাট্রস পাখি এমনকি মেরু ভালুকও এক ধরনের ‘চুমু’ দেয়। তবে তাদের ক্ষেত্রে এটি ভালোবাসা নয়; অনেক সময় আধিপত্য প্রকাশ বা এলাকা চিহ্নিত করার জন্য এই আচরণ দেখা যায়।
চুমুর ঝুঁকিও কম নয়
চুমু যেমন ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ, তেমনি এটি রোগ ছড়ানোর একটি সহজ মাধ্যম। যেমন-হারপিস বা গ্ল্যান্ডুলার ফিভারের মতো রোগ চুমুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়া চুমু খাওয়ার সময় মানুষ তুলনামূলকভাবে অসতর্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে।
শেষ কথা: চুমু কি শুধু চুমুই?
সবকিছুর পরেও প্রশ্ন থেকে যায়-চুমু কি শুধুই ভালোবাসার প্রকাশ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর বৈজ্ঞানিক রহস্য?

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















