১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের

ব্রিটেন-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন: ট্রাম্প যুগে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ কি নতুন পথে?

দীর্ঘদিনের মিত্র ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবারও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে। একসময় যাকে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ বলা হতো, সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন নানা রাজনৈতিক মতবিরোধ, কৌশলগত টানাপোড়েন এবং নেতৃত্বের সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সামনে চলে এসেছে।

রাজকীয় কূটনীতির নতুন চেষ্টা

আগামী দিনে ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

Despite Iran tensions, King Charles III will follow his mother's lead in  celebrating US-UK bonds | News | kdhnews.com

তবে বাস্তবতা হলো, কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা রাজকীয় আড়ম্বর দিয়ে এই সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা কঠিন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এতটাই তীব্র যে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নতুন করে এই সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং তার প্রভাব ব্রিটেনের ওপরও পড়ছে। এ নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে স্টারমারও তার প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই পারস্পরিক বিরূপ মনোভাব সম্পর্কের গভীর সংকটকে স্পষ্ট করে তুলছে।

ইতিহাসের আলোকে বর্তমান সংকট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ পর্যন্ত দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।

Well done for surviving the Trump test, PM. But our true friends are in  Europe | Stella Creasy | The Guardian

তবে এই দীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। ব্রিটেন প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে, আবার দেশটির ভেতরে এমন সমালোচনাও ছিল যে, ব্রিটিশ নেতৃত্ব অনেক সময় আমেরিকার অনুসারী হয়ে পড়ে।

বর্তমান সংকটের বিশেষ দিক হলো, এবার প্রথমবারের মতো এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যেতে পারে।

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের চ্যালেঞ্জ

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে সেতুবন্ধনের যে ভূমিকা ছিল, সেটিও অনেকটাই হারিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে গেছে।

এ ছাড়া অভিবাসন নীতি ও বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে দেশের ভেতরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্রিটেনের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

The UK can't claim to take national security seriously at all after these  Mandelson revelations | The Independent

তবুও শক্তির জায়গা রয়েছে

এই সংকটের মধ্যেও ব্রিটেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিভা আকর্ষণ, সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা সক্ষমতা, বিশেষ বাহিনী, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্রিটেনকে এখনও প্রভাবশালী করে রেখেছে।

বিশেষ করে সফট পাওয়ারের ক্ষেত্রে ব্রিটেন এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ভবিষ্যতের পথ কী

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করা। প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা বজায় রাখা এখন জরুরি।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দক্ষ ও দৃঢ় নেতৃত্ব, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

ব্রিটেন-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন: ট্রাম্প যুগে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ কি নতুন পথে?

০১:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘদিনের মিত্র ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবারও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে। একসময় যাকে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ বলা হতো, সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন নানা রাজনৈতিক মতবিরোধ, কৌশলগত টানাপোড়েন এবং নেতৃত্বের সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সামনে চলে এসেছে।

রাজকীয় কূটনীতির নতুন চেষ্টা

আগামী দিনে ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

Despite Iran tensions, King Charles III will follow his mother's lead in  celebrating US-UK bonds | News | kdhnews.com

তবে বাস্তবতা হলো, কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা রাজকীয় আড়ম্বর দিয়ে এই সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা কঠিন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এতটাই তীব্র যে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নতুন করে এই সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং তার প্রভাব ব্রিটেনের ওপরও পড়ছে। এ নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে স্টারমারও তার প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই পারস্পরিক বিরূপ মনোভাব সম্পর্কের গভীর সংকটকে স্পষ্ট করে তুলছে।

ইতিহাসের আলোকে বর্তমান সংকট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ পর্যন্ত দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।

Well done for surviving the Trump test, PM. But our true friends are in  Europe | Stella Creasy | The Guardian

তবে এই দীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। ব্রিটেন প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে, আবার দেশটির ভেতরে এমন সমালোচনাও ছিল যে, ব্রিটিশ নেতৃত্ব অনেক সময় আমেরিকার অনুসারী হয়ে পড়ে।

বর্তমান সংকটের বিশেষ দিক হলো, এবার প্রথমবারের মতো এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যেতে পারে।

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের চ্যালেঞ্জ

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে সেতুবন্ধনের যে ভূমিকা ছিল, সেটিও অনেকটাই হারিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে গেছে।

এ ছাড়া অভিবাসন নীতি ও বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে দেশের ভেতরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্রিটেনের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

The UK can't claim to take national security seriously at all after these  Mandelson revelations | The Independent

তবুও শক্তির জায়গা রয়েছে

এই সংকটের মধ্যেও ব্রিটেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিভা আকর্ষণ, সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা সক্ষমতা, বিশেষ বাহিনী, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্রিটেনকে এখনও প্রভাবশালী করে রেখেছে।

বিশেষ করে সফট পাওয়ারের ক্ষেত্রে ব্রিটেন এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ভবিষ্যতের পথ কী

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করা। প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা বজায় রাখা এখন জরুরি।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দক্ষ ও দৃঢ় নেতৃত্ব, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।