পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে উত্তেজনা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিনটি ছিল বেশ টানটান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬২.১৮ শতাংশ। সকাল ১১টা পর্যন্ত এই হার ছিল ৪১.১১ শতাংশ। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হচ্ছে। ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস পুনর্নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে, অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা
ভোট শুরুর পরপরই মুর্শিদাবাদের নওদা এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও এজেইউপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে, যদিও তারা দাবি করেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

ইভিএম সমস্যায় ভোটে বিঘ্ন
কয়েকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন, তবে এতে কিছু জায়গায় ভোটারদের ভোগান্তি বাড়ে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও বক্তব্য
নদিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এবার বাংলার মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ যে অনেক শহরে তৃণমূল হয়তো তাদের ভোটের হিসাবই খুলতে পারবে না।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দমদমের এক সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্বোধনের ক্ষেত্রে অমিত শাহ নারীদের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে দাবি করেন, ভুয়া ও মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই। তিনি শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারী ও যুব ভোটারদের বেশি করে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক
এই নির্বাচনে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৪ কোটিতে নেমে এসেছে।
সার্বিকভাবে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণে একদিকে যেমন ভালো উপস্থিতি দেখা গেছে, অন্যদিকে সহিংসতা, প্রযুক্তিগত সমস্যা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















