০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
টিকার মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা, সংকট মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার নাশকতার আশঙ্কা: আতঙ্ক নয়, সতর্কতায় জোর দিচ্ছে পুলিশ ভুয়া এসএসসি প্রশ্নফাঁসের ফাঁদে শিক্ষার্থী, চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীর ১১ পাম্পে বাধ্যতামূলক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ, মোটরসাইকেলে তেল নিতে লাগবে কিউআর কোড হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ২৫১ কলেজ শিক্ষার্থীর বানানো গো-কার্টে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের উত্তর আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বকাপের আগে ঐক্যের স্বপ্নে ফাটল বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে: জামায়াত আমিরের কড়া অভিযোগ চট্টগ্রামের রাউজানে ফের গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত—দুই মাসে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক

ঝিনাইদহে লাগাতার লোডশেডিং: তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন ও ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবং তীব্র গরম—এই দুইয়ের চাপে ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার প্রায় ২১ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ১২৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পল্লী এলাকায় সংকট আরও তীব্র

No photo description available.

ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) নাজমুন নাহার জারিন জানান, তাদের অধীনে বর্তমানে ৪ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ আবাসিক গ্রাহক, পাশাপাশি বাণিজ্যিক, সেচ, শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট হলেও বৃহস্পতিবার তারা পেয়েছেন মাত্র ৪২ মেগাওয়াট। ফলে দিনে একাধিকবার ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

গরমে বাড়ছে মানুষের কষ্ট

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এক গ্রাহক ইহসানুল ইসলাম জানান, টানা সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ না রেখে সমানভাবে বণ্টনের দাবি জানান।

সদর উপজেলার বনকিরা গ্রামের জহুরা খাতুন বলেন, রাতে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আর দিনে আসা-যাওয়া করছে অনিয়মিতভাবে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষক আজমুল হুদা বিশ্বাসও।

শহরাঞ্চলেও একই চিত্র

পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী দিন মোহাম্মদ মহিম জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে চাহিদা ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াটের মতো।

দোহারে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি

বৃহস্পতিবার ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অন্তত ৮ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে গেছে। ফলে জেলা শহরের প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

শিল্প ও ব্যবসায় বড় ধাক্কা

ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

সমাধানের অনিশ্চয়তা

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

টিকার মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা, সংকট মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার

ঝিনাইদহে লাগাতার লোডশেডিং: তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন ও ব্যবসা

০৩:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবং তীব্র গরম—এই দুইয়ের চাপে ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার প্রায় ২১ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ১২৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পল্লী এলাকায় সংকট আরও তীব্র

No photo description available.

ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) নাজমুন নাহার জারিন জানান, তাদের অধীনে বর্তমানে ৪ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ আবাসিক গ্রাহক, পাশাপাশি বাণিজ্যিক, সেচ, শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট হলেও বৃহস্পতিবার তারা পেয়েছেন মাত্র ৪২ মেগাওয়াট। ফলে দিনে একাধিকবার ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

গরমে বাড়ছে মানুষের কষ্ট

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এক গ্রাহক ইহসানুল ইসলাম জানান, টানা সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ না রেখে সমানভাবে বণ্টনের দাবি জানান।

সদর উপজেলার বনকিরা গ্রামের জহুরা খাতুন বলেন, রাতে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আর দিনে আসা-যাওয়া করছে অনিয়মিতভাবে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষক আজমুল হুদা বিশ্বাসও।

শহরাঞ্চলেও একই চিত্র

পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী দিন মোহাম্মদ মহিম জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে চাহিদা ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াটের মতো।

দোহারে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি

বৃহস্পতিবার ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অন্তত ৮ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে গেছে। ফলে জেলা শহরের প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

শিল্প ও ব্যবসায় বড় ধাক্কা

ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

সমাধানের অনিশ্চয়তা

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।