০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে ধস, এক মাসে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে জ্বালানি সংকটে ধস মোটরসাইকেল বাজারে, গ্রামে বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা: প্রবৃদ্ধির মাঝেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা ব্রিটেন-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন: ট্রাম্প যুগে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ কি নতুন পথে? আইফোনের যুগের শেষপ্রান্তে অ্যাপল: নতুন নেতৃত্বে কি বদলাবে কৌশল? ইসলামাবাদ আলোচনায় প্রতিনিধিত্বের মান নামালো যুক্তরাষ্ট্র, তবু ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ইসরায়েলের জন্য আসল সংকট: আমেরিকার সমর্থন হারানোর ঝুঁকি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়াতে সংকটে ইসরায়েল 

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট এখন টেলিযোগাযোগ খাতকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমেই জেনারেটরনির্ভর হয়ে উঠছে, যা বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।

সংকটের গভীরতা

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ফলে বেস স্টেশন, ডাটা সেন্টার এবং সুইচিং সিস্টেম সচল রাখতে অপারেটরগুলোকে প্রায় পুরোপুরি জ্বালানিচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি কেবল সাময়িক অসুবিধা নয়, বরং ধীরে ধীরে দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিদিন বিপুল জ্বালানি ব্যয়

মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু বিটিএস সাইট চালাতে কয়েক দশ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। ডাটা সেন্টার ও সুইচিং স্থাপনাগুলোতেও বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যয় হচ্ছে।

গ্রিড বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সচল রাখতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত কয়েকশ লিটার ডিজেল খরচ করতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্ভরশীলতাও বাড়ছে।

Daily Manobkantha:: বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে চাপে মোবাইল নেটওয়ার্ক, বড়  বিপর্যয়ের আশঙ্কা: Daily Manobkantha

ডাটা সেন্টার নিয়ে বড় উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো ডাটা সেন্টার। এখান থেকেই ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচালনা করা হয়।

খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, ডাটা সেন্টারে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা মুহূর্তেই সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে।

ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব

বর্তমানে দেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী সেবার মান কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।

কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং দীর্ঘ সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার মতো সমস্যাগুলো বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় ‘ব্ল্যাক জোন’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।

সংকট অব্যাহত থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী, অর্থাৎ ১১ কোটিরও বেশি মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি সেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ অঞ্চলে বেশি ঝুঁকি

দুর্বল অবকাঠামো ও সীমিত জ্বালানি সরবরাহের কারণে গ্রামীণ অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

Fuel supply to 8 northern districts disrupted as tanker workers go on  strike | The Business Standard

জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন, ডিপো থেকে সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি পরিবহনে বিধিনিষেধ—এসব কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই সংকট শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রফতানি খাত, সরকারি ডিজিটাল সেবা এবং জরুরি পরিষেবা—সবই এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন হলে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা

টেলিযোগাযোগ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অপারেটররা বাধ্য হয়ে জেনারেটরনির্ভর হয়ে পড়ছেন, যা টেকসই নয়।

তাদের মতে, দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ডাটা সেন্টারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করা জরুরি।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট: বিপর্যয়ের শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান

পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

শেষ কথা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে টেলিযোগাযোগ খাত এখন নজিরবিহীন চাপের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অর্থনীতি—দুটিই বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক

০২:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট এখন টেলিযোগাযোগ খাতকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমেই জেনারেটরনির্ভর হয়ে উঠছে, যা বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।

সংকটের গভীরতা

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ফলে বেস স্টেশন, ডাটা সেন্টার এবং সুইচিং সিস্টেম সচল রাখতে অপারেটরগুলোকে প্রায় পুরোপুরি জ্বালানিচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি কেবল সাময়িক অসুবিধা নয়, বরং ধীরে ধীরে দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিদিন বিপুল জ্বালানি ব্যয়

মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু বিটিএস সাইট চালাতে কয়েক দশ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। ডাটা সেন্টার ও সুইচিং স্থাপনাগুলোতেও বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যয় হচ্ছে।

গ্রিড বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সচল রাখতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত কয়েকশ লিটার ডিজেল খরচ করতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্ভরশীলতাও বাড়ছে।

Daily Manobkantha:: বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে চাপে মোবাইল নেটওয়ার্ক, বড়  বিপর্যয়ের আশঙ্কা: Daily Manobkantha

ডাটা সেন্টার নিয়ে বড় উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো ডাটা সেন্টার। এখান থেকেই ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচালনা করা হয়।

খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, ডাটা সেন্টারে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা মুহূর্তেই সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে।

ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব

বর্তমানে দেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী সেবার মান কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।

কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং দীর্ঘ সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার মতো সমস্যাগুলো বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় ‘ব্ল্যাক জোন’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।

সংকট অব্যাহত থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী, অর্থাৎ ১১ কোটিরও বেশি মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি সেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ অঞ্চলে বেশি ঝুঁকি

দুর্বল অবকাঠামো ও সীমিত জ্বালানি সরবরাহের কারণে গ্রামীণ অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

Fuel supply to 8 northern districts disrupted as tanker workers go on  strike | The Business Standard

জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন, ডিপো থেকে সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি পরিবহনে বিধিনিষেধ—এসব কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই সংকট শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রফতানি খাত, সরকারি ডিজিটাল সেবা এবং জরুরি পরিষেবা—সবই এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন হলে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা

টেলিযোগাযোগ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অপারেটররা বাধ্য হয়ে জেনারেটরনির্ভর হয়ে পড়ছেন, যা টেকসই নয়।

তাদের মতে, দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ডাটা সেন্টারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করা জরুরি।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট: বিপর্যয়ের শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান

পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

শেষ কথা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে টেলিযোগাযোগ খাত এখন নজিরবিহীন চাপের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অর্থনীতি—দুটিই বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।