মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থিরতা বেড়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ও কড়াকড়ির ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
যুদ্ধের প্রভাব: জাহাজ চলাচলে বড় পতন
প্রায় আট সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে। এক পর্যায়ে দিনে মাত্র একটি জাহাজও পার হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন নতুন করে কয়েকটি জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরান তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্না বা গরম করার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যা বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এই নিয়ন্ত্রণ তাকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ইরান তার প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এমনকি অনেক জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আগে ছিল না। এতে ‘মুক্ত নৌ চলাচল’ কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও বিতর্ক

ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। তাদের দাবি, অবরোধ কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং ইরানি জাহাজ আটকানো হয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরান-সম্পর্কিত কয়েকটি জাহাজ এখনো এই অবরোধ অতিক্রম করতে পেরেছে, যা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারে নৌ উপস্থিতি না বাড়ানোয় অনেকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অস্থিরতা বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা
জাহাজে হামলার আগে কোনো সতর্কতা না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এতে শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে চাইছে না এবং হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন এই হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















