মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনে। জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে, আর এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামছেন হাজার হাজার শ্রমিক। সারাক্ষণ রিপোর্ট
গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস শ্রমজীবীদের
উত্তর ভারতের শিল্পশহর নয়ডায় দিনমজুর ও কারখানার শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৯ বছর বয়সী এক পোশাককর্মী টানা তিন সপ্তাহ ধরে কাজ ফাঁকি দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। আগে যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে একটি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেটি কালোবাজারে কিনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে। ফলে পরিবারের খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বেতন স্থির, খরচ ঊর্ধ্বমুখী
শুধু গ্যাস নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের চাপ আরও বেড়েছে। অথচ মজুরি প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভই একমাত্র পথ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। চলতি মাসে ভারতের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বড় আকারে শ্রমিক আন্দোলন দেখা গেছে।
বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশি অভিযান
নয়ডায় একদিনের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। এই বিক্ষোভ এখন অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে।

জ্বালানি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে সংকট
ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের বড় অংশ আমদানি করে, যার বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। যুদ্ধের কারণে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। যদিও সরকার গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য কিছুটা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, তবে বাস্তবে অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না।
সীমিত মজুত, বাড়ছে দুশ্চিন্তা
ভারতের কাছে তেল ও জ্বালানির সীমিত মজুত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংকট সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের মাসগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে।
কূটনৈতিক তৎপরতা, তবু অনিশ্চয়তা
সরকার বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধের কারণে ট্যাংকার চলাচল কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শহর ছাড়ছে শ্রমিকরা
অনেক শ্রমিকই বাধ্য হয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অতিরিক্ত কাজ করেও যখন খরচ মেটানো যাচ্ছে না, তখন শহরে থাকার আর অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















