একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে সংগৃহীত জনসাধারণের অনুদান ও বিভিন্ন উৎসের অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২৩ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই অর্থ গরিব ও দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আত্মসাতের উৎস ও অর্থের গন্তব্য
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান জানান, অভিযুক্ত সংস্থাটি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করত, যার মধ্যে একটি রাজ্য জাকাত সংস্থার জন্য নির্ধারিত অর্থ থেকেও কমিশন হিসেবে টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু সেই অর্থ নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে ব্যক্তিগত খাতে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা যায়, এই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল সম্পদ ক্রয়সহ ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে কুয়ালালামপুর উপত্যকা অঞ্চল থেকে এবং একজনকে সেলাঙ্গর রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন কোম্পানির পরিচালক বলেও জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে তারা একত্রে এই অর্থ আত্মসাতে যুক্ত ছিলেন।

বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ
তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮টি বিলাসবহুল গাড়ি, যেমন পোরশে, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, রেঞ্জ রোভার ও হোন্ডা সিভিক টাইপ আর। পাশাপাশি প্রায় এক কোটি দশ লাখ রিঙ্গিত মূল্যের বাড়ি ও জমি, নগদ অর্থ এবং দামী ঘড়িও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২০ কোটি রিঙ্গিতের সমপরিমাণ অর্থ থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ ও আইনজীবীর বক্তব্য
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তদন্তে সহায়তার জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবী জানান, এখনো তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি কোনো ধরনের প্রভাব বা অতিরঞ্জন ছাড়া তদন্ত চালানোর আহ্বান জানান।
তদন্ত অব্যাহত
দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো চক্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জনসাধারণের অনুদান কোথায় কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















