সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার খবর সামনে এলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন ইউনিটের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা দল ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসেছে এবং তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার গোয়েন্দা টিমও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শও দেন তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা
এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকির আওতায় ধরে বাড়তি নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম উল্লেখ না থাকলেও সাম্প্রতিক এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কিছু সাবেক সামরিক সদস্যের যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানানো হয়।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যোগাযোগের তথ্য
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত, কোথা থেকে নির্দেশনা আসত—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য কোনো পরিকল্পনা বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এমন তথ্য সামনে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। তাই আগাম সতর্কতা জারি করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতার আহ্বান
পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















