০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বমানের জোড্রেল ব্যাংক বন্ধের শঙ্কা, ব্রিটেনে পদার্থবিজ্ঞানীদের দেশ ছাড়ার আশঙ্কা ১৭ বছর পর বিবিসি ব্রেকফাস্ট ছাড়ছেন নাগা মুনচেট্টি, এবার রেডিও ফাইভ লাইভে নতুন সকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন ককরোচের উপমা, শিক্ষার সংকট এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি যুক্তরাজ্যে বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাবে বাড়ছে দাবানলের শঙ্কা বাংলাদেশে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ ফরিদপুরে সবজি ব্যবসায়ী হত্যা: ১৪ বছর পর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড সত্যজিৎ রায়ের প্রশংসায় ক্রিস্টোফার নোলান, ‘ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা’ পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির তাণ্ডব: আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি, আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা যুক্তরাজ্যে ধনীদের সংখ্যা কমছে: আর্থিক সংকটের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে মিলিয়নিয়ার, কারণ কী?

এআই ঝড়ে মেটার ছাঁটাই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। সেই ধারাবাহিকতায় মেটা তাদের কর্মপরিকল্পনায় বড় রূপান্তর আনছে এবং প্রায় ১০% কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা হাজারো কর্মীর চাকরিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এআই নির্ভর কর্মপরিবেশে পরিবর্তন
মেটা জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কম সংখ্যক কর্মী দিয়েই বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দক্ষতা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। ইতোমধ্যে কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে এআই যুক্ত করা হয়েছে এবং দলগুলোকে ছোট ও সমতল কাঠামোয় আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবস্থাপনার স্তর কমে আসে।

নতুন এআই এজেন্ট তৈরির উদ্যোগ
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের জন্য একটি বিশেষ এআই এজেন্ট তৈরির কাজ চলছে, যা তথ্য সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি প্রধান অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অধিকাংশ কাজই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, আর মানুষ থাকবে তদারকি ও উন্নয়নের দায়িত্বে।

Meta lays off 600 in AI division despite billion-dollar AI push | Mashable

নজরদারি সফটওয়্যার নিয়ে উদ্বেগ
মেটা নতুন একটি সফটওয়্যার চালু করেছে, যা কর্মীদের কীবোর্ড ব্যবহার, মাউস চলাচল ও ক্লিক পর্যবেক্ষণ করবে। এর লক্ষ্য ভবিষ্যৎ এআই মডেলকে কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো। তবে এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোম্পানি বলছে, এসব তথ্য শুধুমাত্র এআই উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হবে এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ব্যবহার করা হবে না।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের ধারা
মেটার এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে চলমান ছাঁটাইয়ের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। অ্যামাজন, ওরাকলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কর্মী কমাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ এবং কাজের ধরনে দ্রুত পরিবর্তনই এই প্রবণতার প্রধান কারণ।

ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ
মেটা নিজেদের একটি এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের কাজের বড় অংশ দখল করবে। ইতোমধ্যে ছোট দল দিয়েই বড় কাজ সম্পন্ন করার উদাহরণ সামনে এসেছে। তবে এই পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, অনেকেই ভাবছেন তারা নিজেরাই কি তাদের চাকরি হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছেন।

মেটা জানিয়েছে, ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ হবে মানুষ ও এআইয়ের সমন্বয়ে, যেখানে দক্ষতা ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বমানের জোড্রেল ব্যাংক বন্ধের শঙ্কা, ব্রিটেনে পদার্থবিজ্ঞানীদের দেশ ছাড়ার আশঙ্কা

এআই ঝড়ে মেটার ছাঁটাই

০৭:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। সেই ধারাবাহিকতায় মেটা তাদের কর্মপরিকল্পনায় বড় রূপান্তর আনছে এবং প্রায় ১০% কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা হাজারো কর্মীর চাকরিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এআই নির্ভর কর্মপরিবেশে পরিবর্তন
মেটা জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কম সংখ্যক কর্মী দিয়েই বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দক্ষতা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। ইতোমধ্যে কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে এআই যুক্ত করা হয়েছে এবং দলগুলোকে ছোট ও সমতল কাঠামোয় আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবস্থাপনার স্তর কমে আসে।

নতুন এআই এজেন্ট তৈরির উদ্যোগ
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের জন্য একটি বিশেষ এআই এজেন্ট তৈরির কাজ চলছে, যা তথ্য সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি প্রধান অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অধিকাংশ কাজই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, আর মানুষ থাকবে তদারকি ও উন্নয়নের দায়িত্বে।

Meta lays off 600 in AI division despite billion-dollar AI push | Mashable

নজরদারি সফটওয়্যার নিয়ে উদ্বেগ
মেটা নতুন একটি সফটওয়্যার চালু করেছে, যা কর্মীদের কীবোর্ড ব্যবহার, মাউস চলাচল ও ক্লিক পর্যবেক্ষণ করবে। এর লক্ষ্য ভবিষ্যৎ এআই মডেলকে কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো। তবে এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোম্পানি বলছে, এসব তথ্য শুধুমাত্র এআই উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হবে এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ব্যবহার করা হবে না।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের ধারা
মেটার এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে চলমান ছাঁটাইয়ের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। অ্যামাজন, ওরাকলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কর্মী কমাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ এবং কাজের ধরনে দ্রুত পরিবর্তনই এই প্রবণতার প্রধান কারণ।

ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ
মেটা নিজেদের একটি এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের কাজের বড় অংশ দখল করবে। ইতোমধ্যে ছোট দল দিয়েই বড় কাজ সম্পন্ন করার উদাহরণ সামনে এসেছে। তবে এই পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, অনেকেই ভাবছেন তারা নিজেরাই কি তাদের চাকরি হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছেন।

মেটা জানিয়েছে, ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ হবে মানুষ ও এআইয়ের সমন্বয়ে, যেখানে দক্ষতা ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।