০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা আবার দেখলে নতুন কী ধরা পড়ে সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

সুদানের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে এক নতুন বাস্তবতা সামনে আসছে—র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ এখন শুধু একটি সশস্ত্র বাহিনী নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামরিক-অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তাদের কৌশল, জোট এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রমাণ করছে, এই গোষ্ঠীকে দ্রুত দুর্বল করা আর সহজ নয়।

কুরমুক দখল: নতুন মোড়

মার্চ মাসে দক্ষিণ-পূর্ব সুদানের কুরমুক শহর দখল করে আরএসএফ। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি আলোচনায় না এলেও এর গুরুত্ব অনেক। কারণ, এটি শুধু নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেনি, বরং আরএসএফের কৌশলগত জোট গঠনের ক্ষমতাও তুলে ধরেছে। স্থানীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিলেই তারা এই অভিযান চালায়, যা তাদের শক্তি বাড়ানোর নতুন ধারা নির্দেশ করে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অভিযান চালানোর অভিযোগ। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত এখন শুধু সুদানের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে।

Sudan's Civil War and the Future of Information Warfare – Encyclopedia  Geopolitica

যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বাস্তবতা

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি কার্যত ধ্বংসের পথে। কোটি কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া, খাদ্যসংকট তীব্র, আর অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির মাঝেই আরএসএফ নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। রাজধানীসহ কিছু এলাকা হারালেও তারা এখনও দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে প্রভাব ধরে রেখেছে, বিশেষ করে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে।

সীমান্ত ছাড়িয়ে বিস্তার

আরএসএফ শুধু সুদানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ঘাঁটি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অস্ত্র, জ্বালানি ও জনবল সরবরাহের জন্য তারা একাধিক দেশের ভেতরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্ক তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করছে।

ভাড়াটে যোদ্ধা ও বৈশ্বিক যোগসূত্র

History Of Rapid Support Forces | Rapid Support Forces

আরএসএফের একটি বড় শক্তি হলো তাদের আন্তর্জাতিক নিয়োগ ব্যবস্থা। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে দূরবর্তী দেশ থেকেও যোদ্ধারা এতে যোগ দিচ্ছে। মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের প্রলোভনে অনেকেই এই বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে।

এই বহুজাতিক অংশগ্রহণ আরএসএফকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং তাদের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করেছে।

স্বর্ণখনি থেকে সাম্রাজ্য

আরএসএফের আর্থিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে স্বর্ণখনি। একসময় একটি স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে।

এরপর সেই অর্থ দিয়ে তারা ব্যবসা, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিনিয়োগ করে। বর্তমানে এই অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক সুদান ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও বিস্তৃত।

Famine Looms in Sudan as Civil War Pushes Capital Toward Abyss - The New  York Times

যুদ্ধের মধ্যেও টিকে থাকা শক্তি

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আরএসএফ তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন খনিজ এলাকা, নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক তাদের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

একইসঙ্গে তারা নিজেদের একটি বৈধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এমনকি তারা বিকল্প সরকার গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সমাধান কেন কঠিন

সরকারি বাহিনী বারবার আরএসএফকে নির্মূল করার কথা বললেও বাস্তবতা বলছে, তা সহজ নয়। কারণ, এই গোষ্ঠী এখন শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং অর্থনীতি, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জালে জড়িয়ে থাকা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

ফলে যুদ্ধের দ্রুত সমাধান এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, আর সুদানের সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে।

 

 

পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ

সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

১২:৩২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সুদানের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে এক নতুন বাস্তবতা সামনে আসছে—র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ এখন শুধু একটি সশস্ত্র বাহিনী নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামরিক-অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তাদের কৌশল, জোট এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রমাণ করছে, এই গোষ্ঠীকে দ্রুত দুর্বল করা আর সহজ নয়।

কুরমুক দখল: নতুন মোড়

মার্চ মাসে দক্ষিণ-পূর্ব সুদানের কুরমুক শহর দখল করে আরএসএফ। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি আলোচনায় না এলেও এর গুরুত্ব অনেক। কারণ, এটি শুধু নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেনি, বরং আরএসএফের কৌশলগত জোট গঠনের ক্ষমতাও তুলে ধরেছে। স্থানীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিলেই তারা এই অভিযান চালায়, যা তাদের শক্তি বাড়ানোর নতুন ধারা নির্দেশ করে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অভিযান চালানোর অভিযোগ। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত এখন শুধু সুদানের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে।

Sudan's Civil War and the Future of Information Warfare – Encyclopedia  Geopolitica

যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বাস্তবতা

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি কার্যত ধ্বংসের পথে। কোটি কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া, খাদ্যসংকট তীব্র, আর অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির মাঝেই আরএসএফ নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। রাজধানীসহ কিছু এলাকা হারালেও তারা এখনও দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে প্রভাব ধরে রেখেছে, বিশেষ করে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে।

সীমান্ত ছাড়িয়ে বিস্তার

আরএসএফ শুধু সুদানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ঘাঁটি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অস্ত্র, জ্বালানি ও জনবল সরবরাহের জন্য তারা একাধিক দেশের ভেতরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্ক তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করছে।

ভাড়াটে যোদ্ধা ও বৈশ্বিক যোগসূত্র

History Of Rapid Support Forces | Rapid Support Forces

আরএসএফের একটি বড় শক্তি হলো তাদের আন্তর্জাতিক নিয়োগ ব্যবস্থা। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে দূরবর্তী দেশ থেকেও যোদ্ধারা এতে যোগ দিচ্ছে। মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের প্রলোভনে অনেকেই এই বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে।

এই বহুজাতিক অংশগ্রহণ আরএসএফকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং তাদের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করেছে।

স্বর্ণখনি থেকে সাম্রাজ্য

আরএসএফের আর্থিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে স্বর্ণখনি। একসময় একটি স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে।

এরপর সেই অর্থ দিয়ে তারা ব্যবসা, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিনিয়োগ করে। বর্তমানে এই অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক সুদান ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও বিস্তৃত।

Famine Looms in Sudan as Civil War Pushes Capital Toward Abyss - The New  York Times

যুদ্ধের মধ্যেও টিকে থাকা শক্তি

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আরএসএফ তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন খনিজ এলাকা, নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক তাদের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

একইসঙ্গে তারা নিজেদের একটি বৈধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এমনকি তারা বিকল্প সরকার গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সমাধান কেন কঠিন

সরকারি বাহিনী বারবার আরএসএফকে নির্মূল করার কথা বললেও বাস্তবতা বলছে, তা সহজ নয়। কারণ, এই গোষ্ঠী এখন শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং অর্থনীতি, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জালে জড়িয়ে থাকা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

ফলে যুদ্ধের দ্রুত সমাধান এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, আর সুদানের সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে।