এক বছর আগেও কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতার দাবিতে জোয়ার দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই কমে এসেছে। স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে স্বাক্ষর সংগ্রহ জোরদার হলেও জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
সমর্থনের উত্থান থেকে পতন
২০২৫ সালে এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ আলবার্টার স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তখন “ওয়েক্সিট” নামে পরিচিত এই আন্দোলন দ্রুত গতি পায়। প্রাদেশিক সরকার গণভোট আহ্বানের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা আরও উৎসাহিত হয়।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, তারা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছেন, তবুও জনসমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মাঠে বাস্তবতা ভিন্ন

আলবার্টার বৃহত্তম শহরে স্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের অভিজ্ঞতা বলছে, মানুষের আগ্রহ আগের মতো নেই। অনেকেই সমর্থন জানালেও অনেকে আবার বিরোধিতা করছেন। এই দ্বিধা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিতর্ক
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু নেতার বক্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা সম্ভাব্য যুক্ত হওয়ার কথা বলায় অনেক সমর্থকই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এতে আন্দোলনের ভেতরেই মতভেদ বাড়ছে।
কেন্দ্রের নীতিতে পরিবর্তন
কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তন করেছে, যা আলবার্টার মানুষের অসন্তোষ কমাতে ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পূর্ববর্তী কিছু পরিবেশ নীতি শিথিল করার ফলে প্রদেশটির সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্নতার দাবির তীব্রতা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, গণভোটের আলোচনা প্রদেশের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় পড়ছেন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশেও প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির চাপ যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আপত্তি
আলবার্টার আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই বিচ্ছিন্নতার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, স্বাধীনতা হলে পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। এই বিষয়টি আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।
আইনি বাধা ও ভবিষ্যৎ
স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। যদি আদালত মনে করে যে স্বাধীনতা আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘন করবে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াই থমকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গণভোটের দোরগোড়ায় পৌঁছালেও তাদের সামনে এখন আগের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















