ইসরায়েলের ঐতিহ্যগত দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক যুদ্ধনীতির জায়গায় এখন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান ইসরায়েলকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে যুদ্ধের স্পষ্ট সমাপ্তি বা কূটনৈতিক লক্ষ্য প্রায় অনুপস্থিত।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump বারবার যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। গত ১৫ মাসে অন্তত পাঁচবার তিনি ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করেছেন বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এমনকি লেবাননে বোমা হামলা বন্ধের নির্দেশও আসে ওয়াশিংটন থেকে, যা ইসরায়েলের নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুরনো নীতির পরিবর্তে দীর্ঘ যুদ্ধ
ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী David Ben-Gurion যে নিরাপত্তা নীতি গড়ে তুলেছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল দ্রুত আঘাত, আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধ। ছোট রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানো ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ—এটাই ছিল সেই নীতির মূল ধারণা।
কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী Binyamin Netanyahu, সেই কৌশল থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এখন দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, বড় এলাকা দখল রাখা এবং সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা—এসবই নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের মানবিক ও কূটনৈতিক মূল্য
গাজা ও লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দুর্বল করা হয়েছে, তবুও তারা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সমর্থনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও সমালোচনা বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ দেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
সামরিক সাফল্য বনাম কৌশলগত ব্যর্থতা
ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল “পূর্ণ বিজয়”, কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধগুলো বারবার থেমে যাচ্ছে বা নতুন করে শুরু হচ্ছে। ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে—একটি যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সংঘাত শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই ধরনের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে এবং প্রত্যাশিত ফল দেয় না।
নতুন ‘প্রি-এম্পটিভ’ ধারণা
বর্তমানে ইসরায়েলের কৌশলে একটি পরিবর্তন এসেছে, যেখানে শত্রুর পরিকল্পনা নয়, বরং তাদের সক্ষমতাকেই আগে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই নীতির ফলে গাজা, লেবানন এমনকি সিরিয়ার কিছু অংশে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ আছে, যদিও প্রকাশ্যে তারা সরকারের অবস্থান সমর্থন করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















