দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রশাসন একযোগে ফৌজদারি অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা এবং মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ মূলত আমেরিকান নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার জালিয়াতি দমনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণায় মার্কিন নাগরিকরা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে এই অপরাধচক্রের আয় বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
ওয়াশিংটনের ইউএস অ্যাটর্নি জিনিন পিরো দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে ওয়্যার জালিয়াতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা মিয়ানমারের একটি প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন, যেখানে জোরপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে আমেরিকানদের ঠকানো হতো।
পরবর্তীতে ওই কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে তারা কম্বোডিয়ায় আরেকটি প্রতারণা ঘাঁটিতে চলে যান। চলতি বছর থাইল্যান্ডে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তারা সেখানেই আটক রয়েছেন।

কৌশলী প্রতারণার ফাঁদ
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারকরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের ফোন করে নিজেদের বড় মার্কিন ব্যাংকের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিত। তারা দাবি করত, ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অস্ত্র কেনা হয়েছে।
এরপর ভুক্তভোগীদের ভুয়া ‘এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা’ ও ‘নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট’-এর প্রতিনিধিদের কাছে স্থানান্তর করা হতো। ভয় দেখিয়ে তাদের সঞ্চয় প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বাধ্য করা হতো।
কম্বোডিয়ার রাজনীতিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা
এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কম্বোডিয়ার শাসক দলের সিনেটর ও ব্যবসায়ী কোক আন-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে এবং নিরাপত্তা সহায়তা দেয়, বিশেষ করে ক্যাসিনো সংলগ্ন এলাকায়।
তথ্যদাতাদের জন্য ১৪ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মিয়ানমারের প্রতারণা কেন্দ্রগুলো থেকে অবৈধ অর্থ জব্দ এবং অপরাধীদের ধরতে সহায়ক তথ্য দিলে মোট ১৪ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
এছাড়া এক দ্বৈত নাগরিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে, যিনি বিভিন্ন প্রতারণা চক্রের অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিস্তার
এই প্রতারণা চক্রগুলো মূলত কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওসের মতো দেশে সক্রিয়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা দুর্বল এবং নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে মানবপাচারের শিকার মানুষদের জোর করে এসব প্রতারণা কাজে ব্যবহার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অপরাধচক্র দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি এখন একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















