বাংলাদেশ-ভারতের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি হুবহু নবায়নের বদলে সময়ের বাস্তবতা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি আর ২০২৬ সালের বাস্তবতা এক নয়, তাই নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কেন জরুরি পুনর্বিবেচনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চুক্তি যদি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই শেষ হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জলবায়ু ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই চুক্তি শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পানি ব্যবস্থাপনাকে কেবল কূটনীতি বা প্রকৌশল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে করে চুক্তিটি বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

তাদের মতে, পানি ব্যবস্থাপনাকে শুধু আইনি বা কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা একটি পুরনো ধারণা। বর্তমান সময়ে এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত—সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন চুক্তিতে এসব দিক বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।
ডাটা শেয়ারিং ও আস্থার প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞরা আরও জোর দিয়েছেন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তথ্য আদান-প্রদানের ওপর। দুই দেশের মধ্যে নির্ভরযোগ্য ডাটা শেয়ারিং ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পানি বণ্টন নিয়ে আস্থার সংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি যৌথ নদী কমিশনকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও বাস্তবতা
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও পানি বিষয়ক কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হতে পারে।
ভারতের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে, যেখানে পানীয় জল ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, চুক্তির নতুন কাঠামো তৈরিতে উভয় পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির তাগিদ
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই চুক্তি শুধু তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য নয়, বরং আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করবে। তাই স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















