চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে ঘিরে ভুয়া প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সিফাত আহমেদ সজীব, মোহাম্মদ সালমান, মেজবাউল আলম মাহিন এবং মোহাম্মদ মহিউজ্জামান মুন্না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের প্রতারণা চালানোর তথ্য সামনে আসে। এরপর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। প্রথমে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকা থেকে সজীবকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এলাকা থেকে মুন্নাকে আটক করা হয়।

প্রতারণার কৌশল
অভিযুক্তরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম সরবরাহের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিত। তারা দাবি করত, নির্দিষ্ট অর্থ দিলে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, তারা যে প্রশ্নপত্র দিত, তার সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নের কোনো মিল ছিল না।
দীর্ঘদিনের সক্রিয় চক্র
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক লাভ করা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে তাদের কার্যক্রমের সময়কাল ও লেনদেনের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তের অগ্রগতি
বিশেষ একটি দল পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই ধরনের প্রতারণা রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কেউ এ ধরনের প্রলোভনে পা না দেয়।
এসএসসি প্রশ্নপত্র প্রতারণা চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















