যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান Jerome Powell-কে ঘিরে চলা ফৌজদারি তদন্ত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত Kevin Warsh-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বড় বাধা দূর হতে পারে।
ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি Jeanine Pirro শুক্রবার এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ফেডের দুটি ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কার ব্যয়ের বিষয়ে কংগ্রেসে দেওয়া পাউয়েলের সাক্ষ্য ঘিরে যে তদন্ত চলছিল, তা বন্ধ করা হচ্ছে। এর আগে একটি ফেডারেল আদালতও বলেছিল, এ মামলায় অপরাধের প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে।
তদন্ত থামলেও নজরদারি অব্যাহত
তদন্ত বন্ধ হলেও বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফেডের ইন্সপেক্টর জেনারেলকে প্রকল্পটি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আবার তদন্ত শুরু করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাউয়েল নিজেও গত বছর এই প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য ইন্সপেক্টর জেনারেলকে অনুরোধ করেছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
এই তদন্তকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাউয়েল প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাহী শাখা সুদের হার নিয়ে চাপ তৈরি করতে তদন্তকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
রাজনৈতিক চাপও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক রিপাবলিকান সিনেটর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্ত চলতে থাকলে তিনি নতুন ফেড প্রধানের নিয়োগে সমর্থন দেবেন না। ফলে হোয়াইট হাউসকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং নতুন নিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পথ পরিষ্কার
এই সিদ্ধান্তের ফলে কেভিন ওয়ার্শের নিয়োগের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে। সিনেট ব্যাংকিং কমিটিতে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এক ভোটও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত চলতে থাকলে তার অনুমোদন আটকে থাকার আশঙ্কা ছিল।
ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে পাউয়েলের বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৫ মে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হলে তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।
সামনে কী সিদ্ধান্ত নেবেন পাউয়েল
পাউয়েলের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে—তিনি কি গভর্নর হিসেবে তার পদে থাকবেন, নাকি পদত্যাগ করবেন। তার গভর্নর পদে মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের শুরু পর্যন্ত।
তিনি আগেই বলেছেন, তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, সেটিই তার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে। শেষ পর্যন্ত তিনি থাকবেন নাকি চলে যাবেন, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থের জন্য কোনটি ভালো—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















