০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
আমাজনের গাছ নিজেরাই বৃষ্টি ডাকে: বাতাস ‘শুঁকে’ মিলল নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে অন্ত্রের ক্যানসার, নেপথ্যে জীবনযাপন ও পরিবেশের জটিল প্রভাব ম্যালেরিয়ার মতো জটিল রোগ কি শিশুদের মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে? টিকা সংকট- বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস ও বিতর্ক: অতীতের শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক ক্রীড়া রেফারিদের অধিকার রক্ষায় আজীবন লড়াই: ব্যারি মানোর প্রভাব ও উত্তরাধিকার আমেরিকার প্রথম মহাসড়কের গল্প: ন্যাশনাল রোডে গড়ে ওঠা এক জাতির সংযোগ চক্ষু চিকিৎসক থেকে শিল্পসংগ্রাহক: জাপানি ও আমেরিকান শিল্পে আজীবন নিবেদিত কার্ট গিটার ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’: ব্যঙ্গ থেকে বাণিজ্যে রূপান্তরের গল্প এআই যুগে মানব বুদ্ধিমত্তা রক্ষার লড়াই: গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ সত্য

স্তালিনের সোভিয়েতে ‘দৈনন্দিন সন্ত্রাস’: এক ডায়েরির ভেতর দিয়ে উন্মোচিত ভীতিকর বাস্তবতা

সোভিয়েত রাশিয়ার দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল—তার এক বিরল, অন্তরঙ্গ এবং ভীতিকর চিত্র উঠে এসেছে সাহিত্যবিদ অলগা ফ্রেইডেনবার্গের ডায়েরিতে। ইরিনা পাপের্নোর বই Always Under Siege সেই ডায়েরিগুলোকে সামনে এনে দেখিয়েছে, কীভাবে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিল।

‘স্কোয়াবল’: দ্বন্দ্বই ছিল স্বাভাবিক সম্পর্ক

ফ্রেইডেনবার্গ লিখেছেন, সোভিয়েত সমাজে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল একধরনের স্থায়ী দ্বন্দ্ব বা “স্কোয়াবল”-এর ওপর। সীমিত সম্পদ, সংকীর্ণ বাসস্থান এবং নজরদারির সংস্কৃতি মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল।

কমিউনাল অ্যাপার্টমেন্টে একাধিক পরিবার একই ঘরে বসবাস করত। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রায় ছিল না বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ একে অপরের প্রতি বিরক্ত, সন্দেহপ্রবণ এবং শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠে। ফ্রেইডেনবার্গের মতে, এই দ্বন্দ্ব ছিল শুধু সামাজিক বাস্তবতা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে তৈরি একটি পরিবেশ।

‘দৈনন্দিন সন্ত্রাস’ ও নজরদারির রাষ্ট্র

ফ্রেইডেনবার্গের পর্যবেক্ষণে, স্তালিন শুধু রাজনৈতিক সন্ত্রাসই তৈরি করেননি—তিনি তৈরি করেছিলেন “দৈনন্দিন সন্ত্রাস”। অর্থাৎ এমন একটি পরিবেশ, যেখানে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠত ভয়ের উৎস।

মানুষ সবসময় একে অপরকে নজরে রাখত, অভিযোগ করত, এবং রাষ্ট্রের কাছে তথ্য দিত। ফলে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং সামাজিক আচরণ—সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল।

লেনিনগ্রাদের অবরোধ: মানবিক সংকটের চরম রূপ

৯০০ দিনের লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময় ফ্রেইডেনবার্গের ডায়েরিতে উঠে এসেছে ক্ষুধা, ঠান্ডা, বোমাবর্ষণ এবং অমানবিক জীবনযাপনের নির্মম বর্ণনা। মানুষের শরীর কীভাবে ক্ষুধায় ভেঙে পড়ে, কীভাবে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াও বদলে যায়—সেসব তিনি বিস্তারিতভাবে লিখেছেন।

Hitler's war on the Soviet Union - and how Stalin prepared the way for it |  The Communist

একই সঙ্গে, নাৎসি হামলার মাঝেও স্তালিনের দমননীতি বন্ধ হয়নি। ফলে মানুষ একসঙ্গে দুই ধরনের সন্ত্রাসের মুখে পড়েছিল—বাইরের যুদ্ধ এবং ভেতরের দমননীতি।

ইতিহাসে বিশ্বাসই ছিল টিকে থাকার শক্তি

সবকিছুর মধ্যেও ফ্রেইডেনবার্গ বিশ্বাস করতেন, ইতিহাস একদিন সবকিছু মনে রাখবে। এই বিশ্বাসই তাকে ডায়েরি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল, যদিও সেটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

তিনি মনে করতেন, ক্ষমতাবানরা অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃত করতে পারে না। তাই নিজের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে যাওয়াকেই তিনি দেখতেন একধরনের প্রতিরোধ হিসেবে।

এই ডায়েরিগুলো শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়, বরং একটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর প্রভাবের দলিল। সোভিয়েত জীবনের এই অন্ধকার দিক আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের ক্ষমতা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা মানুষের প্রতিদিনের জীবনকেও কীভাবে বিষিয়ে তুলতে পারে।

Athens 1944: Britain's dirty secret | Second world war | The Guardian

 

Operation Barbarossa: When the Nazis Invaded the Soviet Union -  Revolutionary Communists of America

 

Getting Pickled With Joseph Stalin - JSTOR Daily

 

আমাজনের গাছ নিজেরাই বৃষ্টি ডাকে: বাতাস ‘শুঁকে’ মিলল নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

স্তালিনের সোভিয়েতে ‘দৈনন্দিন সন্ত্রাস’: এক ডায়েরির ভেতর দিয়ে উন্মোচিত ভীতিকর বাস্তবতা

১১:১৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোভিয়েত রাশিয়ার দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল—তার এক বিরল, অন্তরঙ্গ এবং ভীতিকর চিত্র উঠে এসেছে সাহিত্যবিদ অলগা ফ্রেইডেনবার্গের ডায়েরিতে। ইরিনা পাপের্নোর বই Always Under Siege সেই ডায়েরিগুলোকে সামনে এনে দেখিয়েছে, কীভাবে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিল।

‘স্কোয়াবল’: দ্বন্দ্বই ছিল স্বাভাবিক সম্পর্ক

ফ্রেইডেনবার্গ লিখেছেন, সোভিয়েত সমাজে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল একধরনের স্থায়ী দ্বন্দ্ব বা “স্কোয়াবল”-এর ওপর। সীমিত সম্পদ, সংকীর্ণ বাসস্থান এবং নজরদারির সংস্কৃতি মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল।

কমিউনাল অ্যাপার্টমেন্টে একাধিক পরিবার একই ঘরে বসবাস করত। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রায় ছিল না বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ একে অপরের প্রতি বিরক্ত, সন্দেহপ্রবণ এবং শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠে। ফ্রেইডেনবার্গের মতে, এই দ্বন্দ্ব ছিল শুধু সামাজিক বাস্তবতা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে তৈরি একটি পরিবেশ।

‘দৈনন্দিন সন্ত্রাস’ ও নজরদারির রাষ্ট্র

ফ্রেইডেনবার্গের পর্যবেক্ষণে, স্তালিন শুধু রাজনৈতিক সন্ত্রাসই তৈরি করেননি—তিনি তৈরি করেছিলেন “দৈনন্দিন সন্ত্রাস”। অর্থাৎ এমন একটি পরিবেশ, যেখানে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠত ভয়ের উৎস।

মানুষ সবসময় একে অপরকে নজরে রাখত, অভিযোগ করত, এবং রাষ্ট্রের কাছে তথ্য দিত। ফলে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং সামাজিক আচরণ—সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল।

লেনিনগ্রাদের অবরোধ: মানবিক সংকটের চরম রূপ

৯০০ দিনের লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময় ফ্রেইডেনবার্গের ডায়েরিতে উঠে এসেছে ক্ষুধা, ঠান্ডা, বোমাবর্ষণ এবং অমানবিক জীবনযাপনের নির্মম বর্ণনা। মানুষের শরীর কীভাবে ক্ষুধায় ভেঙে পড়ে, কীভাবে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াও বদলে যায়—সেসব তিনি বিস্তারিতভাবে লিখেছেন।

Hitler's war on the Soviet Union - and how Stalin prepared the way for it |  The Communist

একই সঙ্গে, নাৎসি হামলার মাঝেও স্তালিনের দমননীতি বন্ধ হয়নি। ফলে মানুষ একসঙ্গে দুই ধরনের সন্ত্রাসের মুখে পড়েছিল—বাইরের যুদ্ধ এবং ভেতরের দমননীতি।

ইতিহাসে বিশ্বাসই ছিল টিকে থাকার শক্তি

সবকিছুর মধ্যেও ফ্রেইডেনবার্গ বিশ্বাস করতেন, ইতিহাস একদিন সবকিছু মনে রাখবে। এই বিশ্বাসই তাকে ডায়েরি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল, যদিও সেটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

তিনি মনে করতেন, ক্ষমতাবানরা অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃত করতে পারে না। তাই নিজের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে যাওয়াকেই তিনি দেখতেন একধরনের প্রতিরোধ হিসেবে।

এই ডায়েরিগুলো শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়, বরং একটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর প্রভাবের দলিল। সোভিয়েত জীবনের এই অন্ধকার দিক আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের ক্ষমতা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা মানুষের প্রতিদিনের জীবনকেও কীভাবে বিষিয়ে তুলতে পারে।

Athens 1944: Britain's dirty secret | Second world war | The Guardian

 

Operation Barbarossa: When the Nazis Invaded the Soviet Union -  Revolutionary Communists of America

 

Getting Pickled With Joseph Stalin - JSTOR Daily