০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত আরও একজন ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও ২০২৮ সালে জেডি ভ্যান্সই কেন এগিয়ে, রুবিওর সম্ভাবনা কতটা যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে ইরান: শোক, ক্ষোভ আর টিকে থাকার লড়াই ইবোলা ঠেকাতে সীমান্তে দড়ি, কঙ্গোর পাশের উগান্ডার শহরে নেই নতুন সংক্রমণ চার শিল্পীর ভিন্ন ভাবনায় নতুন আলোচনায় কোরিয়ার শিল্পজগৎ বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বর্ণবাদ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, স্বাস্থ্যগত কারণ জানালেন জং সুং-হো ২৪ ঘণ্টা একটানা উড়বে চীনের নতুন বেসামরিক ড্রোন, ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি চীনে মিলল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো অ্যাম্বার, বয়স প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ বছর

দলীয় ভোটের যুগে বদলে যাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসের চরিত্র

মার্কিন রাজনীতিতে অ্যালান ডারশোভিটজের রিপাবলিকান দলে ঝোঁকার সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভার চরিত্রে একটি গভীর পরিবর্তন। কংগ্রেস একসময় ছিল আলাদা আলাদা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমঝোতার জায়গা। কিন্তু এখন দলীয় আনুগত্য এতটাই কঠোর হয়ে উঠেছে যে সেটি প্রায় সংসদীয় ব্যবস্থার মতো আচরণ করছে।

স্ট্যানলি স্প্যাটজের মতে, আজকের কংগ্রেসে প্রতিটি দল প্রায় একক সুরে ভোট দেয়। ফলে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে ব্যক্তিগত বিবেচনা, স্থানীয় বাস্তবতা কিংবা আলাদা রাজনৈতিক বিচারবোধের জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আর শুধু নিজেদের এলাকার স্বাধীন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন না। তারা কার্যত নিজেদের দলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের অংশ হয়ে উঠছেন।

দলই এখন মূল শক্তি

এই পরিবর্তনের ফলে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে গেছে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সে দল কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের পদ অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে আইনসভা পরিচালনার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। অন্য দল তখন অনেকাংশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

Instead of Pandering, Democrats Should Try Changing Voters' Minds | The New  Republic

লেখকের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা যে ধরনের কংগ্রেস কল্পনা করেছিলেন, আজকের ব্যবস্থা তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তারা এমন একটি আইনসভা চেয়েছিলেন, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দলীয় লাইনের বাইরে গিয়েও চিন্তা করবেন, বিতর্ক করবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এখন প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন প্রার্থী কত দক্ষ বা যোগ্য, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি কোন দলের প্রার্থী।

স্বতন্ত্র রাজনীতির সীমিত ভূমিকা

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্ররা দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারতেন। বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় ছোট দল বা জোটের সংখ্যালঘু সদস্যদের মতো তারা নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক স্বতন্ত্র রাজনীতিকই কোনো না কোনোভাবে ডেমোক্র্যাটদের কাছাকাছি অবস্থান নেন। ফলে তারা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারছেন না।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে আকর্ষণীয়, অভিজ্ঞ বা মেধাবী প্রার্থীও আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ থাকেন না। ভোটারের কাছে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, কোন দল তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেশি প্রতিনিধিত্ব করে। প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা বা স্বাধীন অবস্থানের গুরুত্ব কমে যায়।

স্প্যাটজের পর্যবেক্ষণ তাই কেবল ডারশোভিটজের দলবদল নিয়ে নয়। এটি মার্কিন গণতন্ত্রের একটি বৃহত্তর সংকেত। কংগ্রেস যদি ক্রমেই কঠোর দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ধারণাই দুর্বল হতে পারে। তখন আইনসভা আর মুক্ত বিতর্কের মঞ্চ থাকে না, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের রাজনৈতিক যন্ত্রে পরিণত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’

দলীয় ভোটের যুগে বদলে যাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসের চরিত্র

০৫:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন রাজনীতিতে অ্যালান ডারশোভিটজের রিপাবলিকান দলে ঝোঁকার সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভার চরিত্রে একটি গভীর পরিবর্তন। কংগ্রেস একসময় ছিল আলাদা আলাদা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমঝোতার জায়গা। কিন্তু এখন দলীয় আনুগত্য এতটাই কঠোর হয়ে উঠেছে যে সেটি প্রায় সংসদীয় ব্যবস্থার মতো আচরণ করছে।

স্ট্যানলি স্প্যাটজের মতে, আজকের কংগ্রেসে প্রতিটি দল প্রায় একক সুরে ভোট দেয়। ফলে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে ব্যক্তিগত বিবেচনা, স্থানীয় বাস্তবতা কিংবা আলাদা রাজনৈতিক বিচারবোধের জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আর শুধু নিজেদের এলাকার স্বাধীন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন না। তারা কার্যত নিজেদের দলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের অংশ হয়ে উঠছেন।

দলই এখন মূল শক্তি

এই পরিবর্তনের ফলে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে গেছে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সে দল কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের পদ অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে আইনসভা পরিচালনার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। অন্য দল তখন অনেকাংশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

Instead of Pandering, Democrats Should Try Changing Voters' Minds | The New  Republic

লেখকের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা যে ধরনের কংগ্রেস কল্পনা করেছিলেন, আজকের ব্যবস্থা তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তারা এমন একটি আইনসভা চেয়েছিলেন, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দলীয় লাইনের বাইরে গিয়েও চিন্তা করবেন, বিতর্ক করবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এখন প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন প্রার্থী কত দক্ষ বা যোগ্য, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি কোন দলের প্রার্থী।

স্বতন্ত্র রাজনীতির সীমিত ভূমিকা

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্ররা দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারতেন। বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় ছোট দল বা জোটের সংখ্যালঘু সদস্যদের মতো তারা নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক স্বতন্ত্র রাজনীতিকই কোনো না কোনোভাবে ডেমোক্র্যাটদের কাছাকাছি অবস্থান নেন। ফলে তারা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারছেন না।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে আকর্ষণীয়, অভিজ্ঞ বা মেধাবী প্রার্থীও আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ থাকেন না। ভোটারের কাছে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, কোন দল তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেশি প্রতিনিধিত্ব করে। প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা বা স্বাধীন অবস্থানের গুরুত্ব কমে যায়।

স্প্যাটজের পর্যবেক্ষণ তাই কেবল ডারশোভিটজের দলবদল নিয়ে নয়। এটি মার্কিন গণতন্ত্রের একটি বৃহত্তর সংকেত। কংগ্রেস যদি ক্রমেই কঠোর দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ধারণাই দুর্বল হতে পারে। তখন আইনসভা আর মুক্ত বিতর্কের মঞ্চ থাকে না, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের রাজনৈতিক যন্ত্রে পরিণত হয়।