০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য সাগরে ৩৬ দিন ধরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করল বাংলাদেশি জেলেরা মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ব্যাংকে অবরুদ্ধ পাটওয়ারী ও সারজিস সন্তানহীন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর, কমছে শিশুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বিশ্বমঞ্চে কোরাল সঙ্গীতের দিশারি, তরুণদের গান শেখাতে নতুন উদ্যোগ

বিশ্বজুড়ে কোরাল সঙ্গীতের পরিচিত নাম হয়ে ওঠা এক দলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তাদের প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত পরিচালক। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটিকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শুধু আন্তর্জাতিক সাফল্যই পাননি, এখন মন দিয়েছেন আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে।

শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণভাবে। কয়েকজন গায়ক নিয়ে ছোট পরিসরে গড়ে ওঠা এই দলটি সময়ের সঙ্গে বদলেছে, বিস্তৃত হয়েছে তাদের কাজের ক্ষেত্র। শুরুতে মূলত প্রাচীন ইংরেজি সঙ্গীত পরিবেশন করলেও এখন তাদের তালিকায় রয়েছে সমসাময়িক সৃষ্টিও। একই সঙ্গে তারা বারোক ধারার সঙ্গীতেও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।

সংখ্যা নয়, সঙ্গীতই আসল
দলের নামের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সম্পর্ক থাকলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা কখনও স্থির থাকেনি। কখনও বড় আয়োজনের জন্য অনেক শিল্পী একসঙ্গে গেয়েছেন, আবার ছোট মঞ্চে সীমিত সংখ্যক কণ্ঠেও অনুষ্ঠান হয়েছে। এই নমনীয়তাই দলটিকে আলাদা করে তুলেছে।

সঙ্গীতের বিস্তার ও নতুন উদ্যোগ
দলটি শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের নিজস্ব রেকর্ড লেবেল গড়ে উঠেছে, যা সঙ্গীত প্রকাশে নতুন দিগন্ত খুলেছে। পাশাপাশি তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণের জন্য চালু হয়েছে একটি বিশেষ কর্মসূচি, যেখানে ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রতিভাবানদের পেশাদার সঙ্গীতজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি আরও কম বয়সীদের জন্যও নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং ডিজিটাল উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে সঙ্গীতচর্চা আরও সহজলভ্য হয়।

Facing the music: Harry Christophers | Classical music | The Guardian

গানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য
এই উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য একটাই—গানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া। সঙ্গীত পরিচালকের মতে, গান এমন একটি বিষয় যা সবাই করতে পারে, এর জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি দলগতভাবে গান করার মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধনের শক্তি, যা তরুণদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শৈশব থেকে সঙ্গীতের টান
তার নিজের সঙ্গীতযাত্রার শুরু হয়েছিল গির্জার কোরাসে গান গাওয়ার মাধ্যমে। পরে উচ্চশিক্ষার সময় আধুনিক সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি ঝুঁকে পড়েন শতাব্দীপ্রাচীন কোরাল সঙ্গীতের দিকে। সেই আগ্রহই পরবর্তীতে তাকে একটি সফল দলের নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করে।

শ্রোতার সঙ্গে সংযোগই মূল চাবিকাঠি
শুরুতে তিনি বুঝতে পারেন, শুধু সুর ঠিকঠাক গাওয়াই যথেষ্ট নয়, শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও জরুরি। সেই চিন্তা থেকেই সঙ্গীত পরিবেশনে নতুন ধারা তৈরি হয়—শব্দের অর্থ তুলে ধরা, আবেগ প্রকাশ করা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

আজও সেই দর্শনই দলের মূল শক্তি। প্রতি বছর তাদের কোরাল সফরে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে আয়োজন করা হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান, যেখানে অতীত ও বর্তমানের সঙ্গীত একসঙ্গে ধ্বনিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য

বিশ্বমঞ্চে কোরাল সঙ্গীতের দিশারি, তরুণদের গান শেখাতে নতুন উদ্যোগ

০৫:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কোরাল সঙ্গীতের পরিচিত নাম হয়ে ওঠা এক দলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তাদের প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত পরিচালক। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটিকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শুধু আন্তর্জাতিক সাফল্যই পাননি, এখন মন দিয়েছেন আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে।

শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণভাবে। কয়েকজন গায়ক নিয়ে ছোট পরিসরে গড়ে ওঠা এই দলটি সময়ের সঙ্গে বদলেছে, বিস্তৃত হয়েছে তাদের কাজের ক্ষেত্র। শুরুতে মূলত প্রাচীন ইংরেজি সঙ্গীত পরিবেশন করলেও এখন তাদের তালিকায় রয়েছে সমসাময়িক সৃষ্টিও। একই সঙ্গে তারা বারোক ধারার সঙ্গীতেও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।

সংখ্যা নয়, সঙ্গীতই আসল
দলের নামের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সম্পর্ক থাকলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা কখনও স্থির থাকেনি। কখনও বড় আয়োজনের জন্য অনেক শিল্পী একসঙ্গে গেয়েছেন, আবার ছোট মঞ্চে সীমিত সংখ্যক কণ্ঠেও অনুষ্ঠান হয়েছে। এই নমনীয়তাই দলটিকে আলাদা করে তুলেছে।

সঙ্গীতের বিস্তার ও নতুন উদ্যোগ
দলটি শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের নিজস্ব রেকর্ড লেবেল গড়ে উঠেছে, যা সঙ্গীত প্রকাশে নতুন দিগন্ত খুলেছে। পাশাপাশি তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণের জন্য চালু হয়েছে একটি বিশেষ কর্মসূচি, যেখানে ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রতিভাবানদের পেশাদার সঙ্গীতজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি আরও কম বয়সীদের জন্যও নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং ডিজিটাল উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে সঙ্গীতচর্চা আরও সহজলভ্য হয়।

Facing the music: Harry Christophers | Classical music | The Guardian

গানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য
এই উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য একটাই—গানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া। সঙ্গীত পরিচালকের মতে, গান এমন একটি বিষয় যা সবাই করতে পারে, এর জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি দলগতভাবে গান করার মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধনের শক্তি, যা তরুণদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শৈশব থেকে সঙ্গীতের টান
তার নিজের সঙ্গীতযাত্রার শুরু হয়েছিল গির্জার কোরাসে গান গাওয়ার মাধ্যমে। পরে উচ্চশিক্ষার সময় আধুনিক সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি ঝুঁকে পড়েন শতাব্দীপ্রাচীন কোরাল সঙ্গীতের দিকে। সেই আগ্রহই পরবর্তীতে তাকে একটি সফল দলের নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করে।

শ্রোতার সঙ্গে সংযোগই মূল চাবিকাঠি
শুরুতে তিনি বুঝতে পারেন, শুধু সুর ঠিকঠাক গাওয়াই যথেষ্ট নয়, শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও জরুরি। সেই চিন্তা থেকেই সঙ্গীত পরিবেশনে নতুন ধারা তৈরি হয়—শব্দের অর্থ তুলে ধরা, আবেগ প্রকাশ করা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

আজও সেই দর্শনই দলের মূল শক্তি। প্রতি বছর তাদের কোরাল সফরে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে আয়োজন করা হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান, যেখানে অতীত ও বর্তমানের সঙ্গীত একসঙ্গে ধ্বনিত হয়।