০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী গুলিতে নিহত ফখরুল মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বললেন, বিনিয়োগের জন্য আদর্শ বাংলাদেশ ইরান যুদ্ধের কারণে দুবাই রুট বন্ধ, জামিলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিকল্প পথের খোঁজ এলডিসি স্নাতকের আগে সংস্কার না হলে বিনিয়োগ টানতে পারবে না বাংলাদেশ, সতর্কতা আঙ্কটাডের যশোরে ‘জিয়া খাল’ পুনরুদ্ধার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাবার স্মৃতিতে নিবেদিত হামে শিশুমৃত্যু থামছে না, ৯৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার অভিযান চলছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার ১৪ বছর: সাংবাদিক দম্পতির বিচার আজও অধরা নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের ১২ বছর: বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী, ৯০টি ফ্লাইট সম্পন্ন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি: নিউজিল্যান্ডের ১৮২, টার্গেট তাড়া করছে বাংলাদেশ

যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সমকালের একটি শিরোনাম “যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী”

বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের সেই উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে খাল খননের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে সকাল থেকেই স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উলাসী খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট তৈরি হতো। খাল খনন শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসবে। খাল খনন উদ্বোধনের পরে খাল পাড়েই স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

নেতাকর্মীরা জানান, ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে মাটি কেটে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ৬ মাসে খাল খনন সফল হয়। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

উলাসী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়িটি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো। খালের পাড়ে একতালা ওই ভবনে রুটি তৈরি করা হতো, আর সেটাই খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল। বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সেই সময়ে তরুণ ছিলাম জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম, এখন তো বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না। আগের মতো গায়ে জোর থাকলে জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও খাল কাটায় অংশ নিতাম।’

এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সুফল নিয়ে আসে মাঠপর্যায়ে।

 

মানবজমিনের একটি শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী”

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে দিল্লির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিগগিরই দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকা মিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ত্রিবেদী।

অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় তিনি কংগ্রেসের সদস্যও ছিলেন। তবে ২০২১ সালে দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকার নতুন হাই কমিশনার হওয়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের পর পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা অবনতি ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিবেদীর মতো প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালবেলার একটি শিরোনাম “দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি”

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচলা কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময় নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ থাকে। এরপরও পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়মিত কাজের অংশ।

জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনও কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। বেবিচকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দফতর যে চিঠি দিয়েছে তারই প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না, আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে থাকি। প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তবে সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, হুমকি না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

 

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী গুলিতে নিহত

যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

০৬:০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী”

বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের সেই উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে খাল খননের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে সকাল থেকেই স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উলাসী খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট তৈরি হতো। খাল খনন শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসবে। খাল খনন উদ্বোধনের পরে খাল পাড়েই স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

নেতাকর্মীরা জানান, ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে মাটি কেটে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ৬ মাসে খাল খনন সফল হয়। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

উলাসী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়িটি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো। খালের পাড়ে একতালা ওই ভবনে রুটি তৈরি করা হতো, আর সেটাই খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল। বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সেই সময়ে তরুণ ছিলাম জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম, এখন তো বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না। আগের মতো গায়ে জোর থাকলে জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও খাল কাটায় অংশ নিতাম।’

এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সুফল নিয়ে আসে মাঠপর্যায়ে।

 

মানবজমিনের একটি শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী”

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে দিল্লির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিগগিরই দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকা মিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ত্রিবেদী।

অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় তিনি কংগ্রেসের সদস্যও ছিলেন। তবে ২০২১ সালে দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকার নতুন হাই কমিশনার হওয়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের পর পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা অবনতি ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিবেদীর মতো প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালবেলার একটি শিরোনাম “দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি”

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচলা কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময় নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ থাকে। এরপরও পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়মিত কাজের অংশ।

জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনও কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। বেবিচকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দফতর যে চিঠি দিয়েছে তারই প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না, আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে থাকি। প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তবে সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, হুমকি না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।