০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

একীভূত ইসলামি ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা: আমানতকারীদের উদ্বেগে স্পষ্ট নির্দেশনা চাইলেন প্রশাসকরা

একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা দূর হয়। আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এ দাবি জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই এই অস্থিরতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক আমানতকারী দ্রুত টাকা তুলে নিচ্ছেন। কেউ কেউ লাভ ছাড়াই শুধু মূল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

গত বছর এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া মোট আর্থিক সহায়তার মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ফেরত দিলেই আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

প্রশাসকদের মতে, এই ধারাই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে নতুন আমানত আসা কমে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আর্থিক সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা। পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ

প্রশাসকরা জানান, সম্প্রতি আমানতের ওপর ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের কারণে সেই ইতিবাচক প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, একীভূতকরণ স্থায়ী কি না এবং আগের মালিকদের অবস্থান কী—এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট ও লিখিত বার্তা না এলে এই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

একীভূত ইসলামি ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা: আমানতকারীদের উদ্বেগে স্পষ্ট নির্দেশনা চাইলেন প্রশাসকরা

০৬:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা দূর হয়। আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এ দাবি জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই এই অস্থিরতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক আমানতকারী দ্রুত টাকা তুলে নিচ্ছেন। কেউ কেউ লাভ ছাড়াই শুধু মূল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

গত বছর এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া মোট আর্থিক সহায়তার মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ফেরত দিলেই আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

প্রশাসকদের মতে, এই ধারাই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে নতুন আমানত আসা কমে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আর্থিক সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা। পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ

প্রশাসকরা জানান, সম্প্রতি আমানতের ওপর ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের কারণে সেই ইতিবাচক প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, একীভূতকরণ স্থায়ী কি না এবং আগের মালিকদের অবস্থান কী—এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট ও লিখিত বার্তা না এলে এই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।