০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ভারত-চীন সম্পর্ক নতুন পথে? আস্থা বাড়াতে ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে একসঙ্গে কাজের বার্তা বেইজিংয়ের লেবানন থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দাবি, যুদ্ধবিরতি টেকসই করার আহ্বান আমের প্রাচুর্যের নেপথ্যের নায়ক: ফলন ৩৫০ শতাংশ বাড়ায় যে বুনো পোকামাকড় প্রেম, নাটক আর বন্ধুত্বে ‘লাভ আইল্যান্ড’ উন্মাদনা, এবার সিনেমা হলে ভক্তদের মিলনমেলা জোহর নির্বাচনে রাজকীয় প্রতিষ্ঠানকে না টানার আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আরটিআই বিধি সংশোধন প্রত্যাহারে ৫ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম, অনশন ও দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আন্না হাজারের নতুন ট্রেলার ও কাস্ট নিয়ে আলোচনায় ‘লায়ার গেম’ অ্যানিমে নেটফ্লিক্সে আসছে ‘ফুল নাইট’ অ্যানিমে, প্রযোজনায় সানরাইজ ও শ্যাফট শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের -শুধু কর্মী নয়, কর্মক্ষেত্রও কি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে?

একীভূত ইসলামি ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা: আমানতকারীদের উদ্বেগে স্পষ্ট নির্দেশনা চাইলেন প্রশাসকরা

একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা দূর হয়। আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এ দাবি জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই এই অস্থিরতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক আমানতকারী দ্রুত টাকা তুলে নিচ্ছেন। কেউ কেউ লাভ ছাড়াই শুধু মূল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

গত বছর এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া মোট আর্থিক সহায়তার মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ফেরত দিলেই আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

প্রশাসকদের মতে, এই ধারাই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে নতুন আমানত আসা কমে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আর্থিক সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা। পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ

প্রশাসকরা জানান, সম্প্রতি আমানতের ওপর ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের কারণে সেই ইতিবাচক প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, একীভূতকরণ স্থায়ী কি না এবং আগের মালিকদের অবস্থান কী—এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট ও লিখিত বার্তা না এলে এই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-চীন সম্পর্ক নতুন পথে? আস্থা বাড়াতে ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে একসঙ্গে কাজের বার্তা বেইজিংয়ের

একীভূত ইসলামি ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা: আমানতকারীদের উদ্বেগে স্পষ্ট নির্দেশনা চাইলেন প্রশাসকরা

০৬:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা দূর হয়। আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এ দাবি জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই এই অস্থিরতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক আমানতকারী দ্রুত টাকা তুলে নিচ্ছেন। কেউ কেউ লাভ ছাড়াই শুধু মূল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

গত বছর এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া মোট আর্থিক সহায়তার মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ফেরত দিলেই আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন।

প্রশাসকদের মতে, এই ধারাই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে নতুন আমানত আসা কমে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আর্থিক সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কম্বাইন্ড ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা। পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ

প্রশাসকরা জানান, সম্প্রতি আমানতের ওপর ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের কারণে সেই ইতিবাচক প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, একীভূতকরণ স্থায়ী কি না এবং আগের মালিকদের অবস্থান কী—এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট ও লিখিত বার্তা না এলে এই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।