উত্তর সুমাত্রার এক ব্যস্ত সড়কের ওপর ঝুলন্ত দড়ির সেতু ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো পারাপার করেছে এক সুমাত্রান ওরাংউটান—সংরক্ষণে এটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বনভূমি খণ্ডিত হলেও যে প্রাণীরা বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পারে, এই ঘটনাটি তারই বাস্তব প্রমাণ।
প্রথমবারের মতো সেতু ব্যবহার
ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি তরুণ পুরুষ ওরাংউটান সতর্কভাবে দড়ির সেতু ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকপাক ভারত অঞ্চলের লাগান–পাগিন্দার সড়কের ওপর প্রায় ১০ মিটার লম্বা এই সেতু পার হওয়ার সময় মাঝপথে থেমে চারপাশ দেখে নেয় সে, এরপর আবার এগিয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন দৃশ্য দেখার কথা জানিয়েছেন সংরক্ষণকর্মীরা।
খণ্ডিত বনভূমি জোড়া লাগানোর উদ্যোগ
এই সেতুটি ২০২৪ সালে একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। বনভূমি বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোকে আবার সংযুক্ত করতেই পাঁচটি এমন সেতু তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি সেতু তৈরি করতে প্রায় ২০০ মিটার দড়ি লাগে এবং অল্প সময়েই এটি স্থাপন করা সম্ভব হয়।
সড়ক নির্মাণে সুবিধা ও সংকট
লাগান–পাগিন্দার সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষের জন্য স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবায় যাতায়াত সহজ হয়েছে। তবে এর ফলে প্রায় ৩৫০টি ওরাংউটানের বাসস্থান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এতে তাদের বিচ্ছিন্নতা বেড়েছে, প্রজননে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংরক্ষণে বড় মাইলফলক
দুই বছর ধরে অপেক্ষার পর এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েও বনভূমির প্রাকৃতিক সংযোগ রক্ষা করা সম্ভব। একই ধরনের সেতু আগে অন্যান্য গাছে বসবাসকারী প্রাণী ব্যবহার করলেও ওরাংউটানের ক্ষেত্রে এটি প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।
মানুষ-প্রাণীর সংঘাত বাড়ছে
উত্তর সুমাত্রার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ও ওরাংউটানের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি একটি ২৫ বছর বয়সী ওরাংউটানকে কৃষিজমি থেকে উদ্ধার করে জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বনভূমি কমে গিয়ে জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় প্রাণীগুলো মানুষের বসতির কাছে চলে আসছে, ফলে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
বিলুপ্তির ঝুঁকিতে প্রজাতি
সুমাত্রান ওরাংউটান বর্তমানে চরম বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বন উজাড়, আবাসস্থল খণ্ডিত হওয়া এবং অবৈধ শিকারের কারণে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এই প্রজাতি এখন কেবল সুমাত্রা ও কালিমান্তান অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।
এই প্রেক্ষাপটে দড়ির সেতুর মতো সহজ সমাধানই ভবিষ্যতে প্রাণী সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বনের সংযোগ রক্ষায় দড়ির সেতু, প্রথমবার সড়ক পার ওরাংউটান
বনের সংযোগ রক্ষা সেতু
দড়ির সেতু ব্যবহার করে প্রথমবার সড়ক পার হলো ওরাংউটান। সংরক্ষণে বড় অগ্রগতি, বন সংযোগ রক্ষায় নতুন আশা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















