০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

হাওরের বুকজুড়ে ধানের স্বপ্ন ডুবে গেলো, সুনামগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের হাহাকার

অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর হতাশা। মাত্র দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতেই অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, যা চলতি মৌসুমে কৃষকদের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হাওরজুড়ে বিপর্যয়ের চিত্র
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, শাল্লা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুরসহ অন্তত সাতটি উপজেলার ছোট-বড় ২০টি হাওর তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর প্রায় দুই লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৪ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমির অধিকাংশই পানির নিচে চলে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

বাঁধ ভাঙন ও পানির চাপ
পানির তীব্র চাপে বিভিন্ন স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়েছে। মধ্যনগর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় একাধিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হাওরে নতুন করে পানি ঢুকে ফসল ডুবিয়েছে। অনেক বাঁধ স্থানীয়ভাবে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো টেকেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকদের হাহাকার | প্রথম আলো

কৃষকদের অসহায় বাস্তবতা
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান কাটার সুযোগ না পেয়েই অনেক ক্ষেত ডুবে গেছে। কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট, বজ্রপাতের ভয় এবং বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারা—সব মিলিয়ে কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আগেই কিছু জমির ধান ডুবে পচে গিয়েছিল। এবার নতুন করে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। কেউ কেউ বলছেন, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের অভাব
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওর অঞ্চলে সঠিকভাবে নদী খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারে না এবং হাওর প্লাবিত হয়ে যায়। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময়ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ ও সীমাবদ্ধতা
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের সহায়তায় কাজ চলছে এবং ধান কাটার জন্য জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তবে একাধিক জেলায় একসঙ্গে ধান কাটার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকরা মাঠে থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

আগামী দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উজানেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাওর অঞ্চলের জন্য আগামী দিনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

হাওরের বুকজুড়ে ধানের স্বপ্ন ডুবে গেলো, সুনামগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের হাহাকার

০৭:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর হতাশা। মাত্র দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতেই অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, যা চলতি মৌসুমে কৃষকদের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হাওরজুড়ে বিপর্যয়ের চিত্র
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, শাল্লা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুরসহ অন্তত সাতটি উপজেলার ছোট-বড় ২০টি হাওর তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর প্রায় দুই লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৪ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমির অধিকাংশই পানির নিচে চলে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

বাঁধ ভাঙন ও পানির চাপ
পানির তীব্র চাপে বিভিন্ন স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়েছে। মধ্যনগর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় একাধিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হাওরে নতুন করে পানি ঢুকে ফসল ডুবিয়েছে। অনেক বাঁধ স্থানীয়ভাবে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো টেকেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকদের হাহাকার | প্রথম আলো

কৃষকদের অসহায় বাস্তবতা
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান কাটার সুযোগ না পেয়েই অনেক ক্ষেত ডুবে গেছে। কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট, বজ্রপাতের ভয় এবং বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারা—সব মিলিয়ে কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আগেই কিছু জমির ধান ডুবে পচে গিয়েছিল। এবার নতুন করে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। কেউ কেউ বলছেন, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের অভাব
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওর অঞ্চলে সঠিকভাবে নদী খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারে না এবং হাওর প্লাবিত হয়ে যায়। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময়ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ ও সীমাবদ্ধতা
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের সহায়তায় কাজ চলছে এবং ধান কাটার জন্য জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তবে একাধিক জেলায় একসঙ্গে ধান কাটার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকরা মাঠে থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

আগামী দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উজানেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাওর অঞ্চলের জন্য আগামী দিনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।