যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বড় কোনো পরিবর্তন দেখাচ্ছে না। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই স্থিতিশীলতার চিত্র দেশের বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতে যে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি তুলে ধরতে পারছে না।
জ্বালানি ব্যয়, কর্মসংস্থান, চাহিদা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর বাস্তব সময়ের নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে এই চাপের প্রকৃত মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বলছে, ছায়া অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আগে এই অনানুষ্ঠানিক খাতই দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক অবদান রাখত।
শহরাঞ্চলে, যেখানে মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ তৈরি হয়, অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেলকে কাজের সময় কমাতে, মেনু সীমিত করতে বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিকল্প জ্বালানি—যেমন জ্বালানি কাঠ—ব্যবহার করতে হচ্ছে।
যদিও নতুন জিডিপি হিসাব পদ্ধতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের তথ্য অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা বাড়ানো হয়েছে, তবু অর্থনীতিবিদদের মতে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করতে আরও উন্নত পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে।
রয়টার্সের ২০ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ জন অর্থনীতিবিদের ওপর করা জরিপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ হতে পারে, যা মার্চের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বছরে প্রত্যাশিত ৭.০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় সামান্য কম।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫.৯ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৮ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোটাক মহীন্দ্রা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ উপাসনা ভারদ্বাজ বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং এই খাতের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা খুবই কম। ফলে সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদি হলে কর্মসংস্থান ও চাহিদার ওপর এর প্রভাব ধাপে ধাপে দেখা যাবে।
ইয়েস ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রনীল পানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের এই বিপর্যয় জিডিপি পরিসংখ্যানে খুব বেশি প্রতিফলিত হবে না। এ কারণেই আপাতত জিডিপি পূর্বাভাসে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
জরিপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৫ শতাংশ হতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ২ থেকে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকলেও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। তবুও জরিপে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকার জ্বালানি শুল্ক কমিয়ে মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা সরকারি অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের সময় যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি মূলধনী ব্যয় কাজ করছিল, সেখান থেকে ব্যয়ের ধারা সরে গিয়ে ভর্তুকির দিকে ঝুঁকতে পারে।
এসটিসিআই প্রাইমারি ডিলার লিমিটেডের প্রধান অর্থনীতিবিদ আদিত্য ব্যাস বলেন, বিনিয়োগে দ্রুত গতি ফেরার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং প্রয়োজনে মূলধনী ব্যয় থেকে তহবিল সরিয়ে ভর্তুকিতে ব্যয় করার ঝুঁকি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজস্ব খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















