আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক লোকসানের চাপের মুখে দেশে সয়াবিন তেলের খুচরা দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত ও খোলা—দুই ধরনের সয়াবিন তেলের দামই লিটারে ৪ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির নতুন দামের ঘোষণা দেন। সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১৯৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা, যা আগে ছিল ১৭৬ টাকা।
পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে, যেখানে আগের মূল্য ছিল ৯৫৫ টাকা। তবে পাম তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রমজান মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামে তেল কিনে দেশে বিক্রি করতে গিয়ে আমদানিকারক ও পরিশোধনকারীরা লোকসানে পড়ছিলেন। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তিনি বলেন, আমদানি-নির্ভর পণ্যের দাম বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও সরকার ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় তা সীমিত রেখেছে।
সরকারি আশ্বাস ও ব্যবসায়ীদের অঙ্গীকার
বাণিজ্যমন্ত্রী ভোক্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে আবারও দাম পর্যালোচনা করে সমন্বয় করা হবে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা নতুন নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে আর কোনো মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানাবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন।

বাজারে সংকট ও বাস্তব চিত্র
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন চলছে, বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক জায়গায় এই পণ্য ৯৮০ থেকে ১,০২০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল।
এই ব্যবধানই নতুন দামের মাধ্যমে কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের যে ফারাক তৈরি হয়েছিল, তা সামঞ্জস্য করতে এই মূল্যবৃদ্ধি ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষের ভারসাম্য বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















