রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় নতুন কৌশলে এগোচ্ছে ব্রিটেন। ইউরোপের নয়টি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমন্বিত নৌবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এই নতুন উদ্যোগকে ন্যাটোর পরিপূরক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মূলত উত্তর দিকের “খোলা সমুদ্র সীমান্ত” রক্ষায় কাজ করবে।
নতুন সামুদ্রিক জোটের লক্ষ্য
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই যৌথ বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য হবে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। এই বাহিনী শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাও গড়ে তোলা হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জোটভুক্ত দেশগুলো একসঙ্গে মহড়া চালাবে, পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রয়োজনে ব্রিটেনের সামরিক সদর দপ্তর থেকেই এই বাহিনী পরিচালিত হবে।
কারা থাকছে এই জোটে
এই নতুন সামুদ্রিক জোটে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, পাঁচটি নর্ডিক দেশ এবং তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র। ব্রিটেন এই জোটের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দেবে। কানাডাও ভবিষ্যতে এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

রাশিয়ার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ
ব্রিটেনের দাবি, গত দুই বছরে তাদের জলসীমায় রাশিয়ার অনুপ্রবেশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। সম্প্রতি রুশ গুপ্তচর সাবমেরিনগুলোকে ব্রিটেনের সমুদ্রতলের অবকাঠামোর আশপাশে নজরদারি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোও ইউরোপীয় জলসীমা ব্যবহার করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন সম্পর্কে টানাপোড়েন
এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা বর্তমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে মতবিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ চায়, সেখানে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রস্তুতি ও সীমাবদ্ধতা
যদিও নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা এসেছে, তবুও ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে দ্রুত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে দেরি হওয়া এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার ঘটনা সেই সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বিনিয়োগের অভাব এবং জাহাজ নির্মাণে কাটছাঁটের প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ব্রিটেন আগামী দুই বছরের মধ্যে যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে মানববিহীন এসকর্ট জাহাজ বা সমুদ্র ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই নতুন সামুদ্রিক জোট ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে রাশিয়াকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















