গত বছর বৈশ্বিক সহায়তা ২৩ শতাংশ কমেছে—রেকর্ড শুরুর পর এক বছরে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। এটি কোনো ছোটখাটো হিসাবের ভুল বা বাজেট চক্রের সাময়িক ওঠানামা নয়। চলতি মাসে প্রকাশিত ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে—সেই বছরই বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়েছিল, যা পরে ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত অর্থায়ন পায়নি। একই সময়ে, ওয়ান ডাটা ও রকফেলার ফাউন্ডেশনের নতুন গবেষণা বলছে, ২০২০ সালের পর আফ্রিকার দেশগুলোর ঋণ গ্রহণের খরচ ৯১ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ যে অর্থ আগে অনুদান হিসেবে আসত, তা চলে যাচ্ছে; আর যে অর্থ তাত্ত্বিকভাবে তার বিকল্প হতে পারে, তা ধার করতে এখন প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। হিসাবটা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
আমি বেশ কিছুদিন ধরেই এই পরিস্থিতি আসতে দেখছিলাম। ইউএসএআইডি বন্ধ হয়ে গেছে। আফ্রিকায় যুক্তরাজ্যের সহায়তা অর্ধেকের বেশি কমানো হচ্ছে। ইউরোপীয় দাতারা তাদের বাজেট প্রতিরক্ষার দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোও এর পরবর্তী প্রভাব অনুভব করছে। যেসব দেশে আমি কাজ করি—উগান্ডা, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া—সেখানে প্রশ্নটি আর এই নয় যে অর্থায়নের মডেল ভেঙে পড়েছে কি না। প্রশ্ন হলো, এর জায়গায় কী আসবে?

দানশীলতা ও করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কিছু ঘাটতি পূরণ করতে পারে। কিন্তু এগুলো অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে না। প্রান্তিক পর্যায়ে দুটিই সত্যিকারের কাজ করে, কিন্তু এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিগুলোর কাঠামোগত রূপান্তরের জন্য যে ধারাবাহিক মূলধনপ্রবাহ দরকার, তা সৃষ্টি করার জন্য এগুলো তৈরি নয়। দানশীলতা চলে দাতার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে; করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা চলে ব্র্যান্ড কৌশলের ভিত্তিতে। কোনোটিই সেই বিনিয়োগ যুক্তি অনুসরণ করে না, যা কর্মসংস্থান, কর রাজস্ব এবং ধাপে ধাপে স্থানীয় সক্ষমতা তৈরি করে।
সৎ উত্তর হলো—বেসরকারি পুঁজি। তবে শর্তসহ।
বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা উন্নয়ন সংস্থা নন। তাদের মুনাফা দরকার, আর মুনাফার জন্য দরকার পূর্বানুমানযোগ্যতা। এই পূর্বানুমানযোগ্যতা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি নির্ভর করে একটি বিষয়ে: শাসনব্যবস্থা। বিমূর্ত অর্থে নয়, সূচকের র্যাঙ্কিংয়ের অর্থেও নয়; বরং বাস্তব, কার্যকর অর্থে। নীতিতে যা বলা হয়েছে, সরকার কি বাস্তবে তা-ই করে? চুক্তি কি কার্যকর করা যায়? নিয়ন্ত্রক পরিবেশ কি এতটা স্থিতিশীল যে তার ওপর ভিত্তি করে পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা যায়? লুসাকা, কিগালি, কামপালা, কুয়ালালামপুর ও নমপেনে যথেষ্ট বিনিয়োগ বৈঠকে বসেছি বলে জানি, বেসরকারি পুঁজি ঠিক এখানেই আটকে যায়। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চান না বলে নয়—কারণ তারা ঝুঁকি না নিলে এমন বৈঠকেই বসতেন না। সমস্যা হলো, লিখিত বিনিয়োগ কাঠামো ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যবধান এতটাই বড় থাকে যে সেই ঝুঁকির দাম নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আফ্রিকা ও এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য আসল বার্তা তাই “বিনিয়োগ আকর্ষণ করুন” নয়—এ কথা তো সব সরকারই বলে। আসল বার্তা হলো: বিশ্বাসযোগ্য, ধারাবাহিক ও স্বচ্ছভাবে শাসন করুন; বিনিয়োগ নিজে থেকেই আসবে। কোনো নীতিপত্রের চেয়ে কিগালি এই বিষয়টি ভালোভাবে দেখায়। আজকের কিগালি ইনোভেশন সিটি—৩০ কোটি ডলারের সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও আফ্রিকা লিডারশিপ ইউনিভার্সিটি রয়েছে এবং আফ্রিকা৫০ ও রুয়ান্ডা ডেভেলপমেন্ট বোর্ড সহ-বিনিয়োগকারী—এক দশকের বেশি আগে রুয়ান্ডার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইস্টার্ন প্রভিন্স সরকারের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ধারণা হিসেবে শুরু হয়েছিল। ধারণাটি জটিল ছিল না: এমন একটি জ্ঞানকেন্দ্র তৈরি করা, যা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানকে আকর্ষণ করবে, যাতে শিক্ষার্থীদের সেই প্রতিষ্ঠান খুঁজতে বাইরে যেতে না হয়। সময় লেগেছে ধারণার কারণে নয়। সময় লেগেছে রুয়ান্ডার ধীরে ধীরে এমন একটি দেশে পরিণত হতে, যেখানে কোনো গুরুতর প্রতিষ্ঠান ত্রিশ বছরের অঙ্গীকার করতে পারে। কার্নেগি মেলন ও আফ্রিকা লিডারশিপ ইউনিভার্সিটি শুধু করছাড়ের জন্য কিগালিকে বেছে নেয়নি। তারা এসেছে কারণ শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা সেই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসযোগ্য করেছে।

এখানেই প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগের জায়গা। বৈশ্বিক প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগ বাজারে এখন ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৫৭ ট্রিলিয়ন ডলার—২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি—এবং পাঁচ বছরে এর মুনাফা ৮ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে পুঁজি আছে। এসব বাজারের দরকার সেই তিনটি জিনিস, যা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল: বিনিয়োগ গ্রহণ ও ব্যবহারের স্থানীয় সক্ষমতা; এমন প্রযুক্তি হস্তান্তর, যা দেশীয় সক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং গড়ে তোলে; এবং এমনভাবে মূলধন কাঠামোবদ্ধ করা, যা স্থানীয় ঝুঁকির প্রকৃত চরিত্রের সঙ্গে মেলে, বাইরে তৈরি কোনো ছাঁচের সঙ্গে নয়। এর কোনোটি নতুন নয়। নতুন হলো জরুরিতা।
সহায়তার যুগ নাটকীয়ভাবে শেষ হচ্ছে না। এটি নীরবে শেষ হচ্ছে—বাজেট লাইনে, কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণায়, আর এমন ই-মেইলে যেখানে বলা হচ্ছে অর্থায়ন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার যেসব সরকার এই মুহূর্তকে ব্যবহার করে বেসরকারি পুঁজি আকর্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়বে—ধারাবাহিক নীতি, কার্যকরযোগ্য চুক্তি, ফলাফলের জন্য জবাবদিহি করতে প্রস্তুত নেতৃত্ব—তারা পুঁজি খুঁজে পাবে। আর যারা পরবর্তী দাতা চক্রের অপেক্ষায় থাকবে, তারা হয়তো দেখবে সেটি আর আসেনি। এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার জানালা এখন খোলা। সরকারগুলোর উচিত সেটি ব্যবহার করা।
আবিলাশ পুলজাল 


















