ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ। হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
তেলের দামে দ্রুত উল্লম্ফন
গত দুই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এশিয়ার শেয়ারবাজারে চাপ
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। জাপানের নিক্কি ২২৫ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে।

খুচরা জ্বালানির দামে নতুন উচ্চতা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪.২৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ। এতে চালকদের ব্যয় প্রায় ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৫.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাধান না এলে তেলের দামে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















