ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সংঘাতের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে যুদ্ধকে ঘিরে কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন কঠোর ভাষায়।
শুরুতেই উত্তপ্ত শুনানি
ক্যাপিটল হিলে নির্ধারিত বাজেট শুনানি দ্রুতই ইরান যুদ্ধকেন্দ্রিক বিতর্কে রূপ নেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী শুনানির শুরুতেই বিরোধী ও নিজ দলের কিছু সদস্যের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাইরের শত্রু নয়, বরং ভেতরের “দায়িত্বহীন ও পরাজয়বাদী বক্তব্য”। এই মন্তব্য শুনানির পরিবেশকে শুরু থেকেই উত্তপ্ত করে তোলে।

ব্যয় ও হতাহতের হিসাব
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের বড় অংশের ব্যয় এসেছে বিপুল পরিমাণ বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যয় ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এখন খরচের গতি কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বারবার জানতে চান, এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য কী এবং কবে তা শেষ হতে পারে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় এবং এতে বহু দেশ জড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হলে তা শত্রুর জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠবে।

তীব্র বাকবিতণ্ডা
এক পর্যায়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, সরকার শুরু থেকেই জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এর জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, সমালোচকরা আসলে কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এই বাকবিতণ্ডা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে শুনানির সভাপতি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ভিন্নমত
সামরিক নেতৃত্বের দাবি, দুই মাসের অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, দেশটি এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং কৌশলগত জলপথ বন্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতা যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক সমর্থন ও বিভাজন
রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ এখনও যুদ্ধকে সমর্থন করলেও দলটির মধ্যেও কিছু ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্বে সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, ভবিষ্যতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের সমর্থন জরুরি হবে বলে সতর্ক করেছেন কয়েকজন সদস্য।

অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ
শুনানিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে যাওয়া। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
যুদ্ধের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত। সাময়িক যুদ্ধবিরতি, অবরোধ এবং পারস্পরিক চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনও কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি, যা সংঘাতের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















