১২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

মণিপুরে সহিংসতায় ক্লান্ত মানুষ, অস্থিরতায় সমাধান নয়: উপমুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সংঘাতের পরও থামছে না ভারতের মণিপুর রাজ্যের অস্থিরতা। ২০২৩ সালের ৩ মে শুরু হওয়া এই সংকট নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে। এপ্রিলের শুরুতে এক প্রজেক্টাইল হামলায় দুই মেইতেই শিশুর মৃত্যুর পর রাজ্যের কেন্দ্রীয় উপত্যকা এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে উখরুল জেলায় টাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাজ্য সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি ডিখো বলেছেন, সহিংসতা, অবরোধ এবং অস্থিরতার ধারাবাহিকতা কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। মানুষের মধ্যে এখন এই দীর্ঘ সংকট নিয়ে ক্লান্তি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

Manipur: ethnic violence in the Indian state explained | Reuters

ফেব্রুয়ারিতে যুমনাম খেমচন্দ সিংয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শান্তি ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও, বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এবং তার জেরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সম্প্রদায়গত উত্তেজনা ও তার প্রভাব

মণিপুরের সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব। টাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তারই একটি উদাহরণ। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, যা রাজ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে মেইতেই সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। এর ফলে প্রতিবাদ, অবরোধ এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Violence Offers No Solution, No Victory in a Grieving Land”: Manipur Dy CM  Losii Dikho

অস্থিরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

উপমুখ্যমন্ত্রী ডিখো স্পষ্ট করে বলেন, ক্রমাগত সহিংসতা এবং অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এতে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। বরং শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে তিনি জোর দেন।

তার মতে, সাধারণ মানুষ এখন এই দীর্ঘ অস্থিরতায় ক্লান্ত এবং তারা স্থিতিশীলতা চায়। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনো।

ভবিষ্যৎ পথচলা

বর্তমান পরিস্থিতিতে মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। একদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতা, অন্যদিকে পুরনো জাতিগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। তবে সরকার সংলাপ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কত দ্রুত এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় তার ওপর।

India: Ethnic Clashes Restart in Manipur | Human Rights Watch

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

মণিপুরে সহিংসতায় ক্লান্ত মানুষ, অস্থিরতায় সমাধান নয়: উপমুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

১০:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সংঘাতের পরও থামছে না ভারতের মণিপুর রাজ্যের অস্থিরতা। ২০২৩ সালের ৩ মে শুরু হওয়া এই সংকট নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে। এপ্রিলের শুরুতে এক প্রজেক্টাইল হামলায় দুই মেইতেই শিশুর মৃত্যুর পর রাজ্যের কেন্দ্রীয় উপত্যকা এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে উখরুল জেলায় টাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাজ্য সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি ডিখো বলেছেন, সহিংসতা, অবরোধ এবং অস্থিরতার ধারাবাহিকতা কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। মানুষের মধ্যে এখন এই দীর্ঘ সংকট নিয়ে ক্লান্তি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

Manipur: ethnic violence in the Indian state explained | Reuters

ফেব্রুয়ারিতে যুমনাম খেমচন্দ সিংয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শান্তি ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও, বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এবং তার জেরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সম্প্রদায়গত উত্তেজনা ও তার প্রভাব

মণিপুরের সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব। টাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তারই একটি উদাহরণ। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, যা রাজ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে মেইতেই সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। এর ফলে প্রতিবাদ, অবরোধ এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Violence Offers No Solution, No Victory in a Grieving Land”: Manipur Dy CM  Losii Dikho

অস্থিরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

উপমুখ্যমন্ত্রী ডিখো স্পষ্ট করে বলেন, ক্রমাগত সহিংসতা এবং অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এতে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। বরং শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে তিনি জোর দেন।

তার মতে, সাধারণ মানুষ এখন এই দীর্ঘ অস্থিরতায় ক্লান্ত এবং তারা স্থিতিশীলতা চায়। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনো।

ভবিষ্যৎ পথচলা

বর্তমান পরিস্থিতিতে মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। একদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতা, অন্যদিকে পুরনো জাতিগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। তবে সরকার সংলাপ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কত দ্রুত এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় তার ওপর।

India: Ethnic Clashes Restart in Manipur | Human Rights Watch