বাংলাদেশে বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে এটি দেশের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় প্রতি বছর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৪৮৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে বজ্রপাতে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে “বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস” শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বজ্রপাত মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা, সীমাবদ্ধতা চিহ্নিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও প্রতিরোধের প্রয়োজন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের ঘনবসতির কারণে কৃষক, শিশু ও নারীরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। তিনি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বজ্রনিরোধকযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং আগাম সতর্কবার্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আগাম সতর্কতা থাকলেও কেন মৃত্যু?
আলোচনায় সভাপতিত্বকারী বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মোমেনুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও তিন দিন আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়। এজন্য সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড় সম্পর্কিত নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।

বার্তা পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, পূর্বাভাস তথ্য সময়োপযোগী হতে হবে এবং কয়েক ঘণ্টা আগে তা সারা দেশে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বজ্রপাতের ঝুঁকি, পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে তাদের অভিজ্ঞতা ও চলমান উদ্যোগ শেয়ার করেন।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বজ্রপাত পূর্বাভাসের সীমাবদ্ধতা, দুর্গম এলাকায় সতর্কবার্তা পৌঁছানোর সমস্যা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















