০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
বদলা নয় বদল: নির্বাচনের ফলাফলে ‘উন্নয়নের রাজনীতি’র জয়, বললেন মোদি বঙ্গ জয়ের পর বিজেপির সর্বভারতীয় দাপট: পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তার, শক্তিশালী অবস্থানে দল মমতার আসন হার, ভবানীপুরে অধিকারীর জয়—‘অনৈতিক বিজয়’ অভিযোগে সরব তৃণমূল কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের স্পষ্ট ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় ফেরা গ্রামীণ ঝড় ও শহুরে উত্থানে তৃণমূলকে ছাপিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল আসামে বিপুল জয়ে বিজেপি জোট, তৃতীয় মেয়াদে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রত্যাবর্তন তামিলনাড়ুতে ভাঙল ড্রাভিডিয়ান দ্বৈত আধিপত্য, বিজয়ের দল টিভিকে ঝড় তুলে শীর্ষে তামিলনাড়ুতে ভাঙল ড্রাভিডিয়ান দ্বৈত আধিপত্য, বিজয়ের দল টিভিকে ঝড় তুলে শীর্ষে পুদুচেরিতে আবারও ক্ষমতায় এনডিএ, রঙ্গাসামির জোড়া জয়ে শক্ত অবস্থান কেরালায় কংগ্রেস জোটের ঝড়ো প্রত্যাবর্তন, ১০ বছরের বাম শাসনের অবসান

বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবার উৎপাদন বন্ধ 

দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বয়লারের টিউব বিস্ফোরণের ঘটনায়। শনিবার রাতে ইউনিট-১–এ টিউব ফেটে যাওয়ার পর পুরো কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিত করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। যদিও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার।

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, শনিবার রাতে ইউনিট-১–এর বয়লারের একটি টিউব হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত টিউব প্রতিস্থাপন এবং অতিরিক্ত গরম বয়লারের পানি ঠান্ডা করতে সময় লাগবে, ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

পুনরাবৃত্ত যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপর্যস্ত কেন্দ্র

৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা যান্ত্রিক সমস্যায় জর্জরিত। তিনটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে কেবল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-১ চালু ছিল। ইউনিট-২ গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-৩ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য এখনো কার্যক্রমের বাইরে।

ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

একই ইউনিটে একাধিক বিস্ফোরণ

এটি এই মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো একই ইউনিটে টিউব বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে ২৫ এপ্রিল ইউনিট-১–এর আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে ছয় দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয় এবং জাতীয় গ্রিডে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার নতুন করে টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

প্রযুক্তিগত কাঠামো ও ঝুঁকি

বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটে একাধিক টিউব থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে বয়লারে উৎপন্ন বাষ্প টারবাইনে প্রবাহিত হয়। এসব টিউবের কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পুরো ইউনিটের কার্যক্রম থেমে যেতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

স্থাপনা ও সক্ষমতার বাস্তবতা

২০০৬ সালে চালু হওয়া বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মূলত পাশের কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত হয়। পাশাপাশি এটি উত্তরাঞ্চলের আটটি কৃষিপ্রধান জেলায় সেচ সহায়তার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। শুরুতে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট দিয়ে উৎপাদন শুরু হয়, পরে ২০১৭ সালে চাহিদা মেটাতে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়।

তবে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বদলা নয় বদল: নির্বাচনের ফলাফলে ‘উন্নয়নের রাজনীতি’র জয়, বললেন মোদি

বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবার উৎপাদন বন্ধ 

০২:৩৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বয়লারের টিউব বিস্ফোরণের ঘটনায়। শনিবার রাতে ইউনিট-১–এ টিউব ফেটে যাওয়ার পর পুরো কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিত করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। যদিও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার।

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, শনিবার রাতে ইউনিট-১–এর বয়লারের একটি টিউব হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত টিউব প্রতিস্থাপন এবং অতিরিক্ত গরম বয়লারের পানি ঠান্ডা করতে সময় লাগবে, ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

পুনরাবৃত্ত যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপর্যস্ত কেন্দ্র

৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা যান্ত্রিক সমস্যায় জর্জরিত। তিনটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে কেবল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-১ চালু ছিল। ইউনিট-২ গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-৩ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য এখনো কার্যক্রমের বাইরে।

ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

একই ইউনিটে একাধিক বিস্ফোরণ

এটি এই মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো একই ইউনিটে টিউব বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে ২৫ এপ্রিল ইউনিট-১–এর আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে ছয় দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয় এবং জাতীয় গ্রিডে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার নতুন করে টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

প্রযুক্তিগত কাঠামো ও ঝুঁকি

বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটে একাধিক টিউব থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে বয়লারে উৎপন্ন বাষ্প টারবাইনে প্রবাহিত হয়। এসব টিউবের কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পুরো ইউনিটের কার্যক্রম থেমে যেতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

স্থাপনা ও সক্ষমতার বাস্তবতা

২০০৬ সালে চালু হওয়া বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মূলত পাশের কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত হয়। পাশাপাশি এটি উত্তরাঞ্চলের আটটি কৃষিপ্রধান জেলায় সেচ সহায়তার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। শুরুতে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট দিয়ে উৎপাদন শুরু হয়, পরে ২০১৭ সালে চাহিদা মেটাতে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়।

তবে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।