গ্র্যামি জয়ী র্যাপার কিড কুডি তাঁর ‘রেবেল রেজার্স’ ট্যুর থেকে ব্রিটিশ গায়িকা-গীতিকার এমআইএ-কে বাদ দিয়েছেন। ডালাসের একটি লাইভ শোতে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের পর ভক্তদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ডালাসে
ডালাস, টেক্সাসে অনুষ্ঠিত এক কনসার্টে সহশিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠেন এমআইএ। সেখানে তিনি নিজের জনপ্রিয় গান ‘ইলিগ্যাল’ পরিবেশন না করার কথা বলেন। তাঁর দাবি ছিল, গানটির বিষয়বস্তু—অবৈধ অভিবাসী—শ্রোতাদের মধ্যেই কেউ কেউ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারেন। এই মন্তব্যের পরপরই দর্শকদের একাংশ তাঁকে দুয়ো দিতে শুরু করে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিতর্কিত বক্তব্যে বাড়ে চাপ
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এমআইএ আরও বলেন, নানা কারণে তাঁকে আগে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, কিন্তু “একজন ব্রাউন রিপাবলিকান ভোটার” হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া পাবেন, তা তিনি ভাবেননি। এই মন্তব্যই মূলত বিতর্ককে আরও উসকে দেয় এবং ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে।
কিড কুডির প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন কিড কুডি। তিনি জানান, এমআইএ-র মন্তব্যের পর ভক্তদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তাঁকে “খুবই হতাশ” করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কুডি বলেন, ট্যুর শুরুর আগেই তিনি এমআইএ-র টিমকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন, কোনো ধরনের আপত্তিকর বা বিভাজনমূলক বক্তব্য তিনি চান না।
তিনি আরও দাবি করেন, এমআইএ-র ব্যবস্থাপনা দল তাঁর এই শর্ত বুঝেছে বলেই তাঁকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি বলেই তিনি মনে করছেন।

ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
এই পরিস্থিতিতে কিড কুডি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এমআইএ-কে তাঁর ট্যুর থেকে বাদ দেন। সংগীতজগতে এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে শিল্পীদের ব্যক্তিগত মতামত ও মঞ্চের আচরণের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিতর্কের প্রভাব
ঘটনাটি দেখিয়েছে, লাইভ পারফরম্যান্সে শিল্পীদের বক্তব্য কতটা সংবেদনশীল হতে পারে এবং তা কীভাবে দ্রুত বড় আকারের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি সংগীতশিল্পীদের পেশাগত সম্পর্ক ও ট্যুরের গতিপথেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সংগীতের মঞ্চে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব—এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। কিড কুডির এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















