সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশু হলো সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী প্রিয়ম সরকার এবং বিশ্বনাথ উপজেলার ছয় মাস বয়সী ওমর। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। একই সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ২৫।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্র বলছে, আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকট প্রকট আকার নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের মেঝেতে বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
শয্যা ও আইসিইউ সংকটে ভোগান্তি

স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংকটের কারণে একাধিক রোগীকে একই কক্ষে গাদাগাদি অবস্থায় রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা সীমিত থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। হাসপাতালের করিডোরেও রোগী ও স্বজনদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসাসেবার চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
চিকিৎসকরা বলছেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও জরুরি রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের শিশুদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















