০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক ক্ষুদ্র চুল্লি, ব্যয় হবে ২২০ কোটি ডলার ইরানে ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল, চরম সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন ডলারের স্থিতিশীলতা, জাপানি ইয়েনে বড় পরিবর্তন নেই—জ্যাকসন হোলের দিকে নজর বাজারের কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, শোনা গেল একের পর এক বিস্ফোরণ রাশিয়ার ওপর ‘স্লেজহ্যামার’ নিষেধাজ্ঞা, আগামী মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাসের আশা কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আশায় ছিল গাড়ি নির্মাতারা, হঠাৎ দ্বিগুণ শুল্কের ধাক্কা এনভিডিয়ার আয় ৭০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জোয়ার আরও কয়েক বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের জাকারবার্গের বড় পরিকল্পনা যেভাবে ভেস্তে গেল ইরানের মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন, এক ডলারে ২০ লাখ রিয়াল ছাড়াল চীনের মানবসদৃশ রোবট এখনো মানুষের চাকরি নেওয়ার মতো বুদ্ধিমান হয়নি

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে নতুন চাপের শঙ্কা, উদ্বেগে সাধারণ গ্রাহক

জ্বালানি তেল ও এলপিজির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। পাইকারি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা পড়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে এমন প্রস্তাব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) প্রথমবারের মতো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দেয়। তবে ইউনিটপ্রতি কত টাকা বাড়ানো হবে, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পাইকারি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে আনুপাতিক হারে খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নেসকোর আগেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আরও কয়েকটি কোম্পানিও শিগগির একই ধরনের আবেদন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিশনের কারিগরি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে এবং পরে গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

পিডিবি'র সিবিএ কার্যালয়ে তালা

 

ভর্তুকির চাপেই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ

বর্তমানে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় করছে। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে সেই বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ টাকায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে সাড়ে পাঁচ টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণেই পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নতুন বাস্তবতায় সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।

মূল্য নির্ধারণে ফিরছে বিইআরসি

আবারও বাড়ল বিদ্যুতের দাম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের বিধান চালু করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই ব্যবস্থায় বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই বিধান বাতিল করে আবারও ‘বিইআরসি আইন ২০০৩’-এর আওতায় মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করে।

বর্তমান সরকার গত ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

গ্রাহকদের বাড়তি দুশ্চিন্তা

বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য নির্ধারিত হয়। সর্বনিম্ন ০-৫০ ইউনিটে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে শুরু করে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৬১ পয়সা পর্যন্ত বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট ও মিটার ভাড়া।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানির দাম, বাজেটে ভর্তুকি বাড়বে কত?

এরই মধ্যে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়। একই মাসে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বেসরকারি চাকরিজীবী মিলি আক্তার বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের দামও বাড়লে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।

সরকারি কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাসের সংকটে বাধ্য হয়ে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তার দামও বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের বিলও যদি বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল এখন সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি মনে করেন, খরচ কমানো ও দায় নির্ধারণ না করে সরাসরি জনগণের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক ক্ষুদ্র চুল্লি, ব্যয় হবে ২২০ কোটি ডলার

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে নতুন চাপের শঙ্কা, উদ্বেগে সাধারণ গ্রাহক

০১:০৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জ্বালানি তেল ও এলপিজির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। পাইকারি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা পড়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে এমন প্রস্তাব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) প্রথমবারের মতো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দেয়। তবে ইউনিটপ্রতি কত টাকা বাড়ানো হবে, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পাইকারি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে আনুপাতিক হারে খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নেসকোর আগেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আরও কয়েকটি কোম্পানিও শিগগির একই ধরনের আবেদন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিশনের কারিগরি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে এবং পরে গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

পিডিবি'র সিবিএ কার্যালয়ে তালা

 

ভর্তুকির চাপেই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ

বর্তমানে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় করছে। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে সেই বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ টাকায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে সাড়ে পাঁচ টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণেই পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নতুন বাস্তবতায় সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।

মূল্য নির্ধারণে ফিরছে বিইআরসি

আবারও বাড়ল বিদ্যুতের দাম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের বিধান চালু করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই ব্যবস্থায় বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই বিধান বাতিল করে আবারও ‘বিইআরসি আইন ২০০৩’-এর আওতায় মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করে।

বর্তমান সরকার গত ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

গ্রাহকদের বাড়তি দুশ্চিন্তা

বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য নির্ধারিত হয়। সর্বনিম্ন ০-৫০ ইউনিটে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে শুরু করে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৬১ পয়সা পর্যন্ত বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট ও মিটার ভাড়া।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানির দাম, বাজেটে ভর্তুকি বাড়বে কত?

এরই মধ্যে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়। একই মাসে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বেসরকারি চাকরিজীবী মিলি আক্তার বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের দামও বাড়লে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।

সরকারি কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাসের সংকটে বাধ্য হয়ে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তার দামও বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের বিলও যদি বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল এখন সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি মনে করেন, খরচ কমানো ও দায় নির্ধারণ না করে সরাসরি জনগণের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।