১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

হাওরের ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক, সরকারি গুদামে বিক্রিও বন্ধ

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে বোরো মৌসুমে নতুন সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, আর খলায় কিংবা সড়কের পাশে রাখা কাটা ধান ভিজে পচে নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও আর্দ্রতার কঠোর শর্তের কারণে অধিকাংশ কৃষক ভেজা ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারছেন না।

জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান পানিতে ডুবে যায়। অনেক কৃষক ধান কেটে খলায় তুললেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। ফলে কাটা ধানও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠে থাকা ধান এবং কাটা ধান— দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক। এখন পর্যন্ত জেলার মাত্র ৩৩ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৬৭ শতাংশ ধান এখনও মাঠে রয়েছে।

হাওরে ধান-খড় হারিয়ে নিঃস্ব কৃষক, এবার ধেয়ে আসছে বন্যা | দৈনিক নয়া দিগন্ত

সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। হবিগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে হবিগঞ্জ থেকে ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে এবং একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি ধান বিক্রি করতে পারবেন। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

তবে সরকারি নীতিমালায় ধানের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো সম্ভব না হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকই সেই শর্ত পূরণ করতে পারছেন না।

বানিয়াচং উপজেলার কৃষক আব্দুল মালিক বলেন, ক্ষেতের ধান পানির নিচে চলে গেছে, আর যেগুলো কেটেছি সেগুলো শুকাতে পারছি না। বৃষ্টির কারণে সব ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি এখন ধান না নেয়, তাহলে কৃষকদের সামনে বড় সংকট তৈরি হবে।

গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতেই দেরি হচ্ছে। যেগুলো কেটেছি সেগুলোও ভিজে গেছে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছি না। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাওরে 'ভেজা ধান' নিয়ে আরেক বিপদে কৃষক

বেরি হাওরের কৃষক জহির উদ্দিন জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন তিনি। এখন ধান নষ্ট হলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারি ধান সংগ্রহের শর্ত শিথিল এবং জরুরি সহায়তার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যোতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই নির্ধারিত আর্দ্রতার মাত্রা যাচাই করে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভেজা ধান দীর্ঘদিন গুদামে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয় বলেই নীতিমালার বাইরে গিয়ে ধান কেনা যাচ্ছে না।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা বিবেচনায় রেখে মিল মালিকদের ভেজা ধান কেনার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, কোনও কৃষক ভেজা ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে এলে গুদামের ভেতরেই তা শুকানোর সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

হাওরের ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক, সরকারি গুদামে বিক্রিও বন্ধ

১২:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে বোরো মৌসুমে নতুন সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, আর খলায় কিংবা সড়কের পাশে রাখা কাটা ধান ভিজে পচে নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও আর্দ্রতার কঠোর শর্তের কারণে অধিকাংশ কৃষক ভেজা ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারছেন না।

জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান পানিতে ডুবে যায়। অনেক কৃষক ধান কেটে খলায় তুললেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। ফলে কাটা ধানও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠে থাকা ধান এবং কাটা ধান— দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক। এখন পর্যন্ত জেলার মাত্র ৩৩ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৬৭ শতাংশ ধান এখনও মাঠে রয়েছে।

হাওরে ধান-খড় হারিয়ে নিঃস্ব কৃষক, এবার ধেয়ে আসছে বন্যা | দৈনিক নয়া দিগন্ত

সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। হবিগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে হবিগঞ্জ থেকে ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে এবং একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি ধান বিক্রি করতে পারবেন। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

তবে সরকারি নীতিমালায় ধানের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো সম্ভব না হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকই সেই শর্ত পূরণ করতে পারছেন না।

বানিয়াচং উপজেলার কৃষক আব্দুল মালিক বলেন, ক্ষেতের ধান পানির নিচে চলে গেছে, আর যেগুলো কেটেছি সেগুলো শুকাতে পারছি না। বৃষ্টির কারণে সব ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি এখন ধান না নেয়, তাহলে কৃষকদের সামনে বড় সংকট তৈরি হবে।

গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতেই দেরি হচ্ছে। যেগুলো কেটেছি সেগুলোও ভিজে গেছে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছি না। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাওরে 'ভেজা ধান' নিয়ে আরেক বিপদে কৃষক

বেরি হাওরের কৃষক জহির উদ্দিন জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন তিনি। এখন ধান নষ্ট হলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারি ধান সংগ্রহের শর্ত শিথিল এবং জরুরি সহায়তার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যোতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই নির্ধারিত আর্দ্রতার মাত্রা যাচাই করে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভেজা ধান দীর্ঘদিন গুদামে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয় বলেই নীতিমালার বাইরে গিয়ে ধান কেনা যাচ্ছে না।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা বিবেচনায় রেখে মিল মালিকদের ভেজা ধান কেনার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, কোনও কৃষক ভেজা ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে এলে গুদামের ভেতরেই তা শুকানোর সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।