রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতেই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে গিয়ে ভেতরের দরপত্রে কাটাকাটি করে পরে আবার তা ফেরত দেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে আরডিএ কার্যালয়ে।
আরডিএ সূত্র জানায়, অপ্রয়োজনীয় ও ব্যবহার অনুপযোগী কিছু মালপত্র বিক্রির জন্য গত ২০ এপ্রিল চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এসব মালপত্রের মধ্যে ছিল পুরোনো বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ২৭টি ছোট-বড় গাছ, ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং একটি লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ আরও কিছু সরঞ্জাম।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। শেষ দিনের দরপত্র গ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যও মোতায়েন ছিল।

পুলিশের সামনেই বাক্স নিয়ে যাওয়া
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, আগেই কিছু দরপত্র জমা পড়ে গেছে। তারা দাবি করেন, আগের জমা পড়া দরপত্র বাতিল করে শুধুমাত্র ওই দিনের জমা দেওয়া দরপত্র গ্রহণ করতে হবে।
এক পর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে কার্যালয়ের করিডোরে চলে যান। সেখানে বাক্স খুলে আগে জমা দেওয়া দরপত্র বের করে সেগুলোতে কাটাকাটি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর বাক্সটি আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সিসিটিভিতে যা দেখা গেছে
ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কাউকে বাধা দেননি। ফুটেজে ওয়ার্ড যুবদলের নেতা শরিফ ও সাগর, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
টেন্ডার খোলার পর কী মিলল

বাক্স ফেরত পাওয়ার পর তা খোলা হলে চারটি গ্রুপের বিপরীতে মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপে পাঁচটি এবং বাকি তিনটি গ্রুপে চারটি করে দরপত্র ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালপত্র কেনার জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।
একাধিক দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। পরে খোলার পর দেখা যায়, বেশ কিছু দরপত্রে টেম্পারিংয়ের আলামত রয়েছে।
বাতিলের দাবি ও প্রশাসনের অবস্থান
ঘটনার পর একজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়ে পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে টেন্ডার বাতিল করা হবে কি না জানতে চাইলে আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি দাবি করেছেন, এ ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কিনা তা নিশ্চিত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণে একপক্ষ টেন্ডার বাক্স নিয়ে গিয়েছিল। পরে সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরডিএ মামলা করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই ও টেম্পারিংয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি দরপত্র ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















