১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য সরকার গঠনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারের আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেবে বিজেপি।

প্রতিবেদনে বিজেপি নেতাদের বরাতে বলা হয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুতগতিতে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমান্ত ইস্যু

বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই ঘোষণা দিয়েছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করা হবে। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তাকে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও দেওয়া হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে উচ্চবিলাসী-রাজনৈতিক কৌশল: নিরাপত্তা  বিশেষজ্ঞ

‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো, বিতাড়িত করো’ নীতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজেপি সীমান্ত এলাকায় তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিতে চায়। এ জন্য তারা ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি বাস্তবায়নের কথাও বলছে।

দলটির মতে, সীমান্ত জেলাগুলোতে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিজেপির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হলে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি, সিএএ ও এনআরসি ইস্যুতে বিরোধ চলে আসছে।

২০২১ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্র সরকার। তবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার সেটিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণের অনুমতি দিল পশ্চিমবঙ্গ  সরকার

এছাড়া বিতর্কিত সিএএ ও এনআরসি আইন বাস্তবায়ন নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার আইন কার্যকরের নিয়ম জারি করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি তৃণমূল সরকার। ফলে বিজেপির কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও কার্যত থমকে যায়।

তদন্ত ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও টানাপোড়েন

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো একাধিক ঘটনা তদন্ত নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো একাধিকবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে।

এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রথমবারের মতো পদ্ম ফুটেছে’ বলে মন্তব্য করে বিজয় উদযাপন করেছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি

১২:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য সরকার গঠনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারের আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেবে বিজেপি।

প্রতিবেদনে বিজেপি নেতাদের বরাতে বলা হয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুতগতিতে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমান্ত ইস্যু

বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই ঘোষণা দিয়েছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করা হবে। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তাকে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও দেওয়া হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে উচ্চবিলাসী-রাজনৈতিক কৌশল: নিরাপত্তা  বিশেষজ্ঞ

‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো, বিতাড়িত করো’ নীতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজেপি সীমান্ত এলাকায় তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিতে চায়। এ জন্য তারা ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি বাস্তবায়নের কথাও বলছে।

দলটির মতে, সীমান্ত জেলাগুলোতে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিজেপির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হলে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি, সিএএ ও এনআরসি ইস্যুতে বিরোধ চলে আসছে।

২০২১ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্র সরকার। তবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার সেটিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণের অনুমতি দিল পশ্চিমবঙ্গ  সরকার

এছাড়া বিতর্কিত সিএএ ও এনআরসি আইন বাস্তবায়ন নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার আইন কার্যকরের নিয়ম জারি করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি তৃণমূল সরকার। ফলে বিজেপির কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও কার্যত থমকে যায়।

তদন্ত ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও টানাপোড়েন

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো একাধিক ঘটনা তদন্ত নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো একাধিকবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে।

এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রথমবারের মতো পদ্ম ফুটেছে’ বলে মন্তব্য করে বিজয় উদযাপন করেছেন।