অল্প আলো আর বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে একটি ছোট্ট যানবাহনের ভেতরে পরিবারের কোলে শুয়ে আছে ছোট্ট আবির। দুর্বল শরীর, অনিশ্চিত শ্বাস—তার চারপাশে উদ্বিগ্ন মুখগুলো বারবার ঝুঁকে পড়ছে, কেউ অক্সিজেন মাস্ক ঠিক করছে, কেউ ফিসফিস করে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছে, যদিও সেই কথায় লুকানো ভয় স্পষ্ট।
আবিরের পরিবারের জন্য টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার যাত্রা ছিল দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর। প্রথমে তাকে টাঙ্গাইলেই চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

সোমবার তাকে ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আনা হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা—রাত পেরিয়ে ভোর, তবুও আইসিইউতে কোনো বেড পাওয়া যায়নি।
আজ দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে শেষ ভরসা হিসেবে পরিবারটি তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে হয়তো জরুরি সেবা পাওয়া যেতে পারে—এই আশায়।
আবির একা নয়।
সারা দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সংকটে ফেলছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণের মধ্যে সোমবার একদিনেই হাম ও অনুরূপ উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

দেশের সবচেয়ে বড় শিশু বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পরিবারগুলো শিশুদের নিয়ে আসছে—উচ্চ জ্বর, স্থায়ী কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি—হামের পরিচিত উপসর্গ নিয়ে।
আবিরের মতো অনেক শিশুর জন্য নিবিড় পরিচর্যা শুধু প্রয়োজন নয়, বরং জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আইসিইউ বেডের সংখ্যা খুবই সীমিত, যা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
ইউএনবি নিউজ 


















