কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর চিপের চাহিদা বাড়তে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের মাইলফলকে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসির পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিল স্যামসাং।
বুধবার লেনদেনের শুরুতেই স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম ১১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার ও উন্নত কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদাই এই উত্থানের প্রধান কারণ।
এআই বিপ্লবে এশিয়ার প্রভাব

স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও টিএসএমসি এখন বৈশ্বিক এআই অবকাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। উন্নত চিপ উৎপাদন, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার প্রযুক্তি খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছে। চলতি মাসেই এসকে হাইনিক্স ও টিএসএমসির শেয়ারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, উন্নত চিপের চাহিদা আগামী কয়েক বছর আরও বাড়বে।
নিউইয়র্কভিত্তিক রাউন্ডহিল ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী ডেভ মাজ্জা বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করা শুধু প্রতীকী নয়, এটি প্রমাণ করছে যে এআই অবকাঠামোতে মেমোরি প্রযুক্তির ভূমিকা এখন স্থায়ী ও কাঠামোগত হয়ে উঠেছে।
রেকর্ড মুনাফা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সম্প্রতি প্রকাশিত মার্চ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর বিভাগ রেকর্ড মুনাফা করেছে। এআই ডেটা সেন্টারের বড় অর্ডারের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ গুণ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সীমিত সরবরাহ ও বাড়তি চাহিদার কারণে ন্যান্ড ও ড্রাম চিপের দাম আরও বাড়বে। ফলে আগামী কয়েক প্রান্তিকেও স্যামসাংয়ের আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
জুপিটার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক স্যাম কনরাড বলেন, যারা এখনো স্যামসাংয়ে বিনিয়োগ করেননি, তারাও প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় এটিকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখবেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আরও সংকুচিত হতে পারে বলে স্যামসাং নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
অ্যাপলের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ডিভাইসের মূল প্রসেসর উৎপাদনে স্যামসাংকে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার টিএসএমসির পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে স্যামসাংকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে স্যামসাংয়ের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চিপ বিভাগে আয় বাড়লেও মোবাইল ও ডিসপ্লে ব্যবসায় মুনাফা কমছে। কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় এসব খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে এআই বুম থেকে বাড়তি মুনাফার অংশ দাবি করে স্যামসাংয়ের কর্মীরা চলতি মাসের শেষ দিকে ১৮ দিনের সাধারণ ধর্মঘটের হুমকিও দিয়েছে।
তবু বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ১২ মাসে স্যামসাংয়ের শেয়ারমূল্য আরও প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার এক বছরের সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে লেনদেন হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই স্যামসাং ও এশিয়ার চিপ নির্মাতারা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















