নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে রামিম নামে নয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রামিম পলাশ উপজেলার গজারিয়া চরকারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে। বুধবার সকালে সে বাজারে যায়। পরে সকাল ৯টার দিকে গজারিয়া বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে প্রবেশ করে।
অভিযোগ উঠেছে, গ্যারেজে থাকা এক রিকশাচালক এয়ার পাম্প ব্যবহার করে শিশুটির শরীরে জোরপূর্বক উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করান। এতে রামিম গুরুতর আহত হয় এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ
স্থানীয়রা আহত শিশুটিকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রাকিব আসকারি জানান, উচ্চচাপের বাতাস জোরপূর্বক শরীরে প্রবেশ করানোর কারণে শিশুটির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে তার অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
পরিবার ও এলাকাবাসীর শোক
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল রামিম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়। শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, শিশুটির মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শিশু নির্যাতনের এমন ভয়াবহ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ একটি গ্যারেজে দিনের আলোতে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















