ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাস ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস অঞ্চলের ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মুগোনো জানিয়েছেন, আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, বাস থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হতে শুরু করলে চালক বিপদ এড়াতে ডান পাশে সরে যান। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাংকার ট্রাকের কারণে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

পরে ট্রাফিক পুলিশের নতুন তদন্তে জানা যায়, বাসটি একটি বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে উঠে পড়েছিল। তখনই ট্যাংকার ট্রাকটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পরপরই আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে দুই যানবাহন আগুনে পুড়ে যায়।
আগুনে পুড়ে নিহত হন যাত্রীরা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী, ট্যাংকার ট্রাকের চালক এবং তার সহকারী রয়েছেন। অধিকাংশই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় অনেক যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে যান, ফলে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে।
আহত চার যাত্রীকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। অপর একজন সামান্য আহত হয়েছেন।
শনাক্তকরণে জটিলতা
নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানিয়েছেন, ১৬টি মরদেহের ব্যাগ লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে শনাক্তকরণের জন্য। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাংকার চালক ও একজন যাত্রী রয়েছেন।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হবে।
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট
জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুন পুরো এলাকা ঢেকে ফেলে। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। দুর্ঘটনায় দুই যানবাহনই সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে মোচড়ানো ধাতব অংশ।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা নতুন নয়
ইন্দোনেশিয়ায় দুর্বল সড়ক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি দূরপাল্লার ট্রেন ও একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ নারী নিহত হন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















