০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
aespa-র নতুন MV “WDA” মুক্তি পেল G-Dragon-কে নিয়ে — ভক্তদের মধ্যে বিস্ফোরণ OpenAI Apple-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পথে — iPhone-এ ChatGPT ইন্টিগ্রেশন নিয়ে তিক্ততা তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা: ভুল পদক্ষেপ মানেই যুদ্ধ ইরানকে চাপ দিতে পারমাণবিক সাবমেরিন USS Alaska জিব্রাল্টারে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জের হাওরে খড় সংকট, গবাদিপশু বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা ইবোলার নতুন আতঙ্ক: কঙ্গোতে ফের প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের ভয়াবহ সংক্রমণগুলো আবার আলোচনায় কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্র দুই দিন পর উদ্ধার ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাবোওর নীতি ঘিরে শঙ্কা, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মোড়ে দাঁড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া পশ্চিম তীরে বসতি সহিংসতা: নতুন সংকটে ইসরায়েলের নিরাপত্তা

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে গুরুত্ব

বাংলাদেশ বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও সমর্থন কামনা করে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এ প্রকল্পকে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী পুনরুদ্ধার উদ্যোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

দুই পক্ষ উন্নয়ন কৌশলে সমন্বয়, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ওয়ান চায়না নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান

বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানায়। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।

বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনর্মিলনে চীনা সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতায় বেছে নেওয়া উন্নয়নপথের প্রতিও সম্মান পুনর্ব্যক্ত করে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা

দুই দেশের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।

রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর: বাংলাদেশের কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান - BBC  News বাংলা

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানায় দুই দেশ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও আলোচনা হয়েছে। চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে।

বৈঠকের শেষে ড. খলিলুর রহমান চীনের সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

aespa-র নতুন MV “WDA” মুক্তি পেল G-Dragon-কে নিয়ে — ভক্তদের মধ্যে বিস্ফোরণ

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

১২:৫১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে গুরুত্ব

বাংলাদেশ বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও সমর্থন কামনা করে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এ প্রকল্পকে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী পুনরুদ্ধার উদ্যোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

দুই পক্ষ উন্নয়ন কৌশলে সমন্বয়, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ওয়ান চায়না নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান

বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানায়। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।

বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনর্মিলনে চীনা সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতায় বেছে নেওয়া উন্নয়নপথের প্রতিও সম্মান পুনর্ব্যক্ত করে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা

দুই দেশের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।

রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর: বাংলাদেশের কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান - BBC  News বাংলা

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানায় দুই দেশ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও আলোচনা হয়েছে। চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে।

বৈঠকের শেষে ড. খলিলুর রহমান চীনের সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।