মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে কাতার থেকে প্রত্যাশিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সরকার এখন দ্রুততম সময়ে নতুন কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড (পিএলএল) বুধবার আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছে দুটি এলএনজি কার্গোর জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব কার্গো ২০২৬ সালের ১২-১৪ মে এবং ২৪-২৬ মে সময়ের মধ্যে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারিগরি দরপত্র খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ মে দুপুর আড়াইটায়, এরপর যোগ্য প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করে একই দিন রাত ১০টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে ১১ মে’র মধ্যে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। একই দিনে পিএলএল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্গো গ্রহণের নিশ্চয়তা দেবে। এসব এলএনজি কার্গো গ্রহণ করা হবে করাচির পোর্ট কাসিমে অবস্থিত পাকিস্তান গ্যাসপোর্ট কনসোর্টিয়াম লিমিটেড টার্মিনালে।
কাতারের সরবরাহে অনিশ্চয়তা
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান কাতারএনার্জি থেকে একাধিক এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কাতার থেকে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত কয়েকটি কার্গো আটকে আছে।
এই সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একই সঙ্গে ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কাতারও ওই রুটে জাহাজ পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান প্রথমে আশা করেছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিলম্বিত কার্গোগুলো পৌঁছাবে। কিন্তু অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সরকার এখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি সংগ্রহে বাধ্য হয়েছে।
স্পট মার্কেটে বাড়তি দাম
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে বর্তমানে এলএনজির দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম প্রায় ১৬ দশমিক ৮৭ ডলারে অবস্থান করছে। গত ২৪ এপ্রিল পাকিস্তান যে দরপত্র আহ্বান করেছিল, সেখানে টোটালএনার্জিস, ভিটল এবং ওকিউ ট্রেডিংসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান প্রতি এমএমবিটিইউ ১৭ দশমিক ৯৯৮ থেকে ১৮ দশমিক ৮৮০ ডলার পর্যন্ত দর প্রস্তাব করেছিল।

এর মধ্যে টোটালএনার্জিস থেকে একটি কার্গো ১৮ দশমিক ৪ ডলার দরে সংগ্রহ করা হয়। তবে অতিরিক্ত কার্গোর প্রস্তাবগুলো তখন বাতিল করা হয়েছিল, কারণ সরকার কাতার থেকে সরবরাহ আসবে বলে আশা করছিল।
জ্বালানি সরবরাহে চাপ
গত ৩০ এপ্রিল ‘সিপিক ম্যাগেলান’ নামের একটি এলএনজি জাহাজ পোর্ট কাসিমে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার এলএনজি সরবরাহ করেছে। বর্তমানে পিজিপিসিএল টার্মিনাল প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পুনরায় গ্যাসীকৃত এলএনজি সরবরাহ করছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহার হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় গ্যাসের আরও ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি দরে মিশ্রিত করে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস করাচিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিকের বিভিন্ন প্ল্যান্টে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড জানিয়েছে, বাড়তে থাকা চাহিদা সামাল দিতে মে মাসে পাকিস্তানের অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, উন্নত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে রাজস্বভিত্তিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিছু এলাকায় এখনও চালু রয়েছে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















