পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পিটিআই। দলটির পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করে পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং এখন সেই অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরান খান ও বুশরা বিবির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ব্যারিস্টার গোহর বলেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর করে যথাযথ চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তার ভাষায়, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে “লুকোচুরি” বন্ধ করার সময় এসেছে এবং বিষয়টি এখন দ্রুত মনোযোগ দাবি করছে।
পিটিআই নেতাদের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় দুজনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার ও দলের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বুশরা বিবির সাম্প্রতিক শারীরিক জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
চোখের অস্ত্রোপচারের পর আবার হাসপাতালে
সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ফার্স্ট লেডি বুশরা বিবিকে বুধবার রাওয়ালপিন্ডির আল-শিফা ট্রাস্ট আই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার পূর্বনির্ধারিত ফলো-আপ মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে তার চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডান চোখে দৃষ্টিজনিত সমস্যার অভিযোগ করার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে রেটিনাল ডিটাচমেন্ট শনাক্ত করেন এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

এরপর ১৬ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রোগীর সম্মতি পাওয়ার পর চিকিৎসক নাদিম কোরেশির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। অস্ত্রোপচারের পর এক রাত হাসপাতালে থাকার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কারাগারেও চলেছে ফলো-আপ পরীক্ষা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর থেকে আদিয়ালা কারাগারের ভেতরেও নিয়মিত ফলো-আপ স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পিটিআই নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় এবং উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর জরুরি।
বিভিন্ন মামলায় সাজাভোগ করছেন বুশরা বিবি। £১৯০ মিলিয়ন দুর্নীতি মামলায় তিনি সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় রাষ্ট্রীয় মূল্যবান উপহার কম মূল্যে কেনার অভিযোগে তাকে আরও ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















